বরাবরই খ্রীস্টমাস আমার খুব প্রিয়৷ উৎসব বলে নয়৷ একটা আশ্চর্য দিন বলে মনে হত এইদিনটাকে৷ তার পেছনে যে কারণটা রয়েছে তা হল, আমার বাবা ছোট বেলায় একটা গল্পের বই এনে দিয়েছিলো৷ তোমরা অনেকেই পড়েছো যীশু এবং তাঁর ভক্তদের নিয়ে যে ছোট ছোট গল্প, সেই গল্পের বই৷ পড়তে পড়তে রোমাঙ্চিত হতাম৷ ছোট মনে প্রশ্ন উঠত তিনি কি জাদুকর! কখনও ড্রাম ভর্তি জল হয়ে যায় আঙ্গুরের রস কখনও অসংখ্য মানুষের পেট ভরে মাত্র দুটো রুটিতে৷ এক অবর্ণনীয় বিস্ময়ে কতবার যে রুদ্ধশ্বাসে গল্পগুলো পড়ে ফেলতাম৷ বালিশের পাশটাতেই বইটা থাকত, যেন আমার সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গী৷
একটু বড় হতেই আর সবাইকে দেখে বুঝলাম সেই জাদুকরের জন্মদিন ২৫শে ডিসেম্বর, দুর্গা পুজো, ঈদ, গুরুপরবের মত একটা উৎসবও বটে! সেই তখন থেকে শিখলাম ক্রিসমাস ট্রি সাজান৷ আরও কত কী স্টার, বেলুন, রঙীন কাগজ…. এখনও সাজাই, তবে, সেই সান্তা আর আসে না! কেট কাটি, ক্যান্ডেল জ্বালাই, প্রার্থনা করি….. সেই মোজাটা ফাঁকা থেকে যায়৷ এখন হয়ত সেই মোজাটার দায়িত্ব সান্তা আমাকে দিয়েছে৷ মা বাবার হাত ধরে ব্যান্ডেল চার্চ, সেন্টপল ক্যাথিড্রাল কতবার গিয়েছি৷ আর ক্রিসমাস ইভে কেন যে মা বাবা কায়দা করে যেনে নিত যীশুর কাছ থেকে আমি কি চাইব, একটা সময় তাও বুঝতে পারি৷ হয়ত এই বোঝাই কাল হয়েছে, তাই আজ ২৫ শে ডিসেম্বর মানে শুধুই ঘুরতে যাওয়া বা পার্কস্ট্রিটে রাতের উদযাপন৷
যেমন একটা সময় বুঝতে পারি উনি কোন যাদুকর নন৷ বুঝতে পারি এই পৃথিবীতে তিনি প্রেম বিলোতে এসেছেন৷ তিনি ঈশ্বরের পুত্র, মানবতার ধর্ম প্রচার করতে এসেছিলেন৷ বুক দিয়ে আগলে রেখেছেন তাঁর শিষ্যদের৷ নিজের পিঠে ক্রুশ বয়ে নিয়ে গেছেন বদ্ধভূমিতে৷
তবু বলব আমার সেই জাদুকরই ভালো ছিল৷ সেই সান্তাই যদি আবার আসত! আমি আর একবার ফিরে যেতে চাইতাম বালিশের পাশে রাখা সেই গল্পগুলোর কাছে৷