।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় রোনক ব্যানার্জী

যৌবনজিজ্ঞাসা

পশ্চিম আকাশজুড়ে মেঘ করল সেদিন;
সারাদিনের ভ্রমণের পর সূর্য‍্যিমামা বিশ্রাম নিল দিগন্ত রেখার কোলে।
হঠাৎই প্রকট হয়ে অর্বাচীনরা হাজারো প্রদীপ জ্বালিয়ে দিল!
কোনো এক প্রত্যাশায় বেদুইন চোখ করে একদল লোক ভীড় জমাল অরণ্যে।
সুদূর থেকে একটা বংশীধ্বনী ধেয়ে আসল,
নিয়নবাতির ঝকঝকে দ‍্যুতিতে চোখ বন্ধ হয়ে এলো।
সূর্যাস্তে ক্লান্ত কলেবরে পাখিরা ফিরে এলো নীড়ে;
সব শেষে প্রকৃতি শান্ত হল, রণক্লান্ত প্রহরী শান্তির বার্তা নিয়ে এলো।
প্রবহমান নদীর গতিপথ বদলে গিয়েছিল সেদিন
একা কিশোর প্রেমের কবিতা লিখে কেঁদেছিল অঝরে,
জীবন নাকি থমকে গিয়েছিল মায়ার গর্তে পড়ে,
কর্মব্যস্ত জীবনের যৌবনলাভ হয়নিকো আর!!
নানান প্রশ্নের অছিলায় স্নিগ্ধতা হারিয়ে গিয়েছিল,
প্রেম নাকি ভালোবাসা আশংকায় লেখা হয়েছিল শেষের কবিতা।
ভুল পথে কত পথিকের স্বপ্নভঙ্গ ঘটেছিল;
জীবনের লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ সৈনিকের মনে জেগেছিল যৌবনজিজ্ঞাসা।

শব্দ

আমার ঘুম ভাঙ্গতো মোরগের ডাক শুনে খুব ভোরে
এখন আর ভাঙ্গেনা,
আ‍্যলার্মক্লকের কৃত্রিম পাখির ডাক আমায় জাগাতে পারেনি;
দিতে পারেনি ঊষার সোনামুখ কিংবা দিনের প্রথম বায়ু।
কারখানার কর্কশ সাইরেনে আমার মন চঞ্চল,
কালিঝুলিমাখা শহরের যান আমার ফুসফুসে ভরে দিয়েছে বিষাক্ত ধোঁয়া,
বিসর্জনের মাইক কর্ণপটহ ভেদ করে ঢুকেছে ককলিয়ায়;
অডিটরি স্নায়ুর কর্মক্ষমতা হ্রাস পেয়ে মস্তিস্ক বিকল।
শব্দবাজির হুঙ্কারে অস্থির হৃদপিন্ড,
যানজটের কোলাহল কর্ণকুহরে প্রবেশের প্রতিযোগীতায় নেমেছে
অসম্ভবের লক্ষ্যে ছুটে চলেছে অদম্য আশার পক্ষীরাজ;
যুদ্ধভূমির মৃত্যুশয্যায়ী বীরের শেষ চিৎকার বন্ধ জানলার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়ছে ঘরে।
হারমোনিকার সরগম কিংবা পিয়ানোয় বিচ্ছেদের সুর,
ক্ষীণ হয়ে আসছে ক্রমশ, মূর্ছা যাচ্ছে অন্তরআত্মার ধ্বনি;
নানাবিধ কম্পনের মিশ্রিত তীক্ষ্ণতায় অনুদৈর্ঘ‍্য তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য পাল্টাচ্ছে
মূক,বধির জীবন্মৃত প্রাণের চেতনা ফেরাতে ঝরছে হাজারো শিউলি ফুল।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।