সম্পাদকীয়

আমরা জীবনে সকলে ভুল করি৷ ভুল বড় সহজাত৷ নির্ভুল মানুষ হতে পারে না৷ কারণ, জীবনটা একটা ছাকনীর মত আর ছিদ্রগুলো ভুল৷ যেমন ছাকনীর ছিদ্রগুলো পেরিয়েই কোন তরল বিশুদ্ধ হয়ে ওঠে৷ ঠিক তেমনই ঐ ভুলের ছিদ্রগুলো পেরিয়েই মানুষ বিদগ্ধ জীবন পায়৷ সময় সবচেয়ে বড় শিক্ষক৷ এক একটা ভুল, পরীক্ষার প্রশ্ন পত্রের এক একটা প্রশ্নের মত৷ হয় ঠিক না হয় “ভুল”৷ প্রশ্নের উত্তর ভুল হলে নম্বর কমে যায়৷ তেমনি জীবনে ভুল করলে সম্পর্ক, বিশ্বাস, ভালোবাসায় একটা কোথায় ঘাটতি দেখা দেয়৷ ভালো ছাত্র ছাত্রীরা ভুল সংশোধন করে নেয়, ভবিষ্যতে যাতে এই ভুলের জন্য আর নম্বর না কমে যায়৷ আমরাও জীবনটাকে পরীক্ষার কক্ষ ভেবে নিই যদি, প্রতিটা পদক্ষেপ খুব সহজ এবং পরিষ্কার হয়ে যায়৷
আমিই কিন্তু আমার সবচেয়ে বড় বিচারক এবং শিক্ষক হয়ে উঠতে পারি৷ ভুলকে ভুল হিসাবে চিহ্নিত করতে করতেই পেরিয়ে যায় বহু সময়৷ ইতিমধ্যেই সেই ভুল থেকে জন্ম নেয় আরও এক ভুল৷ তার থেকে আরও এক ভুল৷ তার থেকে আরও এক ভুল৷ ক্রমশঃ একটা ভুল হাজারটা ভুলের জন্মদাত্রী হয়ে ওঠে৷ কখনও কখনও আবার মানুষের অহং বোধ এত প্রগাঢ় হয়ে ওঠে যে সত্যিটা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনা৷ ভুল স্বীকার করা তখন তার কাছে পরাজিত হওার সমান বলে মনে হয়৷ এই আত্ম অহংকারই মানুষকে আরও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়৷ মূল্যবোধ পুড়তে থাকে৷ যেন-তেন-প্রকারেণ ভুলটাকে ঠিক প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা৷
এওতো এক বড় ভুল, জীবন দর্শনের ভুল, বোধের ভুল, নীতির ভুল৷ ভুল করলে খেসারত দিতেই হবে৷ কখনও সমষ্টিগত ভাবে কখনও আবার ব্যাক্তিগত ভাবে মোকাবিলা করতে হয় পরিস্থিতির৷ আমাদের ইন্দ্রিয়গুলোকে সজাগ রাখতে হবে সদা সর্বদা৷ ছোট ইঙ্গিত, কিংবা শুভাকাঙ্ক্ষী মানুষের সাবধান বার্তা কখনও কখনও আমরা উপেক্ষা করি বা বুঝেই উঠতে পারিনা৷ পুঁথির শিক্ষা যদি ব্যাবহারিক জীবনে কাজেই না লাগাতে পারলাম তবে সে শিক্ষার মূল্য অত্যন্ত তুচ্ছ বলেই গণ্য হয়৷ তাই জীবন সম্পর্কে সম্মক ধারনা এবং ভুল ত্রুটি নির্ধারনের ক্ষমতা থাকা যে বড় প্রয়োজন আমাদের৷ ভুল এবং সংশোধন এটা তো আমাদের জীবনের একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া৷ এই ভাবেই তো জীবনের উন্মেষ ঘটে৷ বিবর্তন আসে৷ ব্যক্তি তথা জাতি এগিয়ে যায় বিভাময়ী আগামীর পথে৷
সেখানে আত্ম অহংকার, লজ্জা, পরাজিত হওয়ার অন্তঃসারশূন্য শ্লাঘা বড় ক্লিশে মনে হয়৷
✍️
রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!