কবিতা সিরিজে রতন বসাক

১| ফিরে এসো
তুমি ছিলে সাথে দিবা কিবা রাতে
কত প্রেম মোরে দিলে,
প্রেম ভাব ফেলে সব আশা ঠেলে
কেন তুমি শোধ নিলে?
বলো তুমি খুলে মোর কোন ভুলে
ছেড়ে চলে গেলে দূরে,
ভেবে দেখে পরে নিজ মনে করে
এলে নাতো কভু ঘুরে!
আজ একা আমি ছিলে তুমি দামি
তবু কেন সরে গেলে?
মোর চেয়ে গুণী বলো আমি শুনি
তাঁর থেকে বেশি পেলে?
এই কথা জানো ভুল যদি মানো
চলে এসো ঘরে ফিরে,
সব ভুলে গিয়ে নব আশা নিয়ে
রেখে দেবো প্রেমে ঘিরে।
নেই তাই তুমি নড়ে গেছে ভূমি
ঘর হয়ে আছে কালো,
নাও তুমি জেনে নিজ ভুল মেনে
ফিরে এলে হবে আলো।
২| পথ দেখাও
মানুষ এখন নিজের ভাবে
অন্যের কথা ভুলে,
মনের ভিতর রাখবে চেপে
বলবে নাতো খুলে।
সবার প্রথম স্বার্থ দেখবে
তবেই যাবে আগে,
কোনো আশা না থাকিলে
দেখে তাঁরা ভাগে।
মানবতার ধার ধারে না
সরিয়ে দেয় দূরে,
কারো বিপদ দেখে নিলে
মুখটা রাখে ঘুরে।
বোঝে নাতো একা-একা
যায় না বাঁচা ভবে,
সুখ সুবিধা পাবার জন্য
মিলে থাকতে হবে।
শান্তি নেইতো কারো মনে
পেতে চাইছে আরো,
নিজের ঘরে ভর্তি করতে
সুযোগ খুঁজে মারো।
ঈশ্বর তুমি পথটা দেখাও
সবাই মেনে চলুক,
আমরা সবাই সবার তরে
এই কথাটা বলুক।
৩| নদী বাঁচাও
নদীর চড়ে জল এসেছে
জেলে ধরছে মাছ,
আশেপাশে দেখা যাচ্ছে
সারি দিয়ে গাছ।
জোয়ার ভাটা আসে ও যায়
দুইবেলাতে রোজ,
জেলের জীবন কেমন কাটে
কেউ রাখে না খোঁজ!
বর্ষাকালেই বৃষ্টির জলে
নদী ভরে যায়,
উভয় কূলের গ্রাম শহরে
তার কারণে ছায়।
জলের জন্য ক’দিন ধরে
সইতে হয় যে ভোগ,
মানুষ তখন দেখা যাবে
ভোগে নানান রোগ।
খুব সহজে চাষের কাজে
আসে নদীর জল,
গ্রীষ্মকালে নদী চাষীর
মনে বাড়ায় বল।
অনেকে আজ দূষণ করছে
ফেলে বর্জ্য সব,
নদীর রক্ষা করতে চাইলে
উঠাও সবাই রব।
৪| শিক্ষাতেই উন্নতি
মানুষ ছিল পশুর মতো
অাদিম যুগে বলে,
সেই সময়ে পাথর ঠুকে
প্রথম অগ্নি জ্বলে।
ধীরে-ধীরেই সভ্য হয়েই
জঙ্গল ছেড়ে দিল,
একের পরে একটা করে
শিক্ষা তাঁরা নিল।
সভ্যতা রোজ এগিয়ে যায়
সু-শিক্ষার ওই ফলে,
এপাড় থেকে ওপাড় যেতে
ভাসায় নৌকা জলে।
শিক্ষা যদি সঠিক থাকে
জীবন কাটে সুখে,
ব্যবহারেই দেখাও গুণটা
নয়তো শুধু মুখে।
নিজের এবং সবার ভাল
সু-শিক্ষাতেই হবে,
শিক্ষার থেকে দূরে সরে
থাকো কেন তবে?