সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় (পর্ব – ৬)

পিরিচ পেয়ালার ও একটি সন্ধ্যা
পিরিচ পেয়ালার ঠুংঠাং- এ ভরে ওঠে সন্ধ্যা, সাথে ভীমসেন মেজাজী আড্ডা৷ কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী কচ্ছ থেকে কোহিমা গোটা ভারতটা ঘুরে ফেলি কিংবা বলা কি যায় গোটা পৃথিবীটাই হয়ত ঘুরে ফেলি আমরা আড্ডা দিতে দিতে৷ আর বিষয়? সম্পর্ক থেকে রসায়ন, রাজনীতি থেকে সংস্কৃতি কোন বিষয়ে আলোচনা হয় না বলুন তো এই আড্ডায়! যেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ড বারেবারে ধরা পড়ে পিরিচ পেয়ালার এই সন্ধ্যার আড্ডায়৷
তেমনই এক সন্ধ্যায় পেশা নিয়ে বাঁধল গোল৷ কোনটা ভুল আর কোনটা অন্যায় তাই নিয়ে চলল বিস্তর তর্ক৷
একেবারে চুলচেরা বিচার৷ নিত্তি মেপে এগানো৷ সমানুপাত ব্যস্তানুপাত কিছু কি বাকি থাকল? আমার আবার হিসেব কষাকষির এমন বহর দেখলে কেশব চন্দ্র নাগের কথা ভারি মনে হয়৷ আর ঐ বাঁদরটার কথা
তেল মাখা ডান্ডায় কিছুটা উঠছে আবার স্লিপ করে ততটাই নেমে আসছে৷
বরাবরই পেশা এক অদ্ভুত জৈব রসায়ন৷ বড় বিচিত্র তার রূপ৷ কত মানুষ আছে পেশাকে বেছে নিতে গিয়ে দ্বন্দের আলো আঁধারির ভুলভুলাইয়ায়তে লাট্টুর মত ঘুরতে ঘুরতে কখন যে জীবনের অভিমুখ পাল্টে ফেলেছে, সে নিজেও বুঝে উঠতে পারে নি৷ যখন বোঝে তখন মেঘ জমাট বেঁধেছে৷ ঝরের পূর্বাভাসে পৃথিবী থমথম করছে৷ কেউ কেউ আবার মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে ঋতু পরিবর্তনের খেলায় মাতে৷ শীত গ্রীষ্ম বর্ষা কিংবা হেমন্ত বসন্ত শরৎ৷ কতনা ঋতুর সঙ্গে মেতে উঠে ঋতুরঙ্গে৷ জীবনের চড়াই উতরাই পেরতে পেরতে কতবার বদলায় পেশা, নেশা, সম্পর্ক৷ তবু প্রতিনিয়ত পেশার সন্ধানে মানুষের স্বর্গ মর্ত্য পাতাল হাতরে খোঁজ শুধু খোঁজ৷
ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার শিক্ষক সেই একই ঘূর্ণাবর্তের মেলানকলিক প্রবাহে যুগের পর যুগ শুধু যন্ত্র মানবের মত স্বপ্ন বপন৷ সেই স্বপ্ন কখনও বাস্তবের আয়নায় মুখ দেখে আবার কখনও বা বাষ্পীভূত হয় তার সমস্ত নির্যাস৷ তবু স্বপ্ন আবীরের মত লাল হয়ে ছড়িয়ে যায় প্রতিদিন সূর্যোদয়ের ভোরে৷ আশাবরী রাগে বাতাসের গানে মোরগফুলের গায়ে স্মৃতিমেদুর রোদ কোহিনূরের মত আলো ছড়ায়৷ স্বপ্ন আমার আপনজন৷ বান্ধব, স্বজন৷ আমাকে তন্ময় করে না বৈভব৷ স্বপ্ন আমার মোহ, চিরকালীন দুর্বলতা৷ সেই স্বপ্ন যদি ফেরি করি? তোমাদের বন্ধ দরজার কড়া নড়ি? স্বপ্ন এনেছি রঙ বেরঙের৷ আদ্যপ্রান্ত স্বপ্নবিলাসী, এই আমি তাই স্বপ্ন ফ করি ফেরি৷ চাকরি আমার ভিন্নতর৷ হয়ত খানিক অবাস্তব৷ তবু বারেবারে, জন্মান্তরে, স্বপ্ন দেখি স্বপ্ন দেখাই৷ তুলাদন্ডে মাপতে গেলে ওজন শুধু নিমিত্ত৷ জুটল খাবার কিংবা জুটল না! তবু সেই পেশাতেই আকাশ খুঁজি৷ ঘরবাড়ি, উঠোন সাজাই৷
স্বপনেই আসে কবিতারা৷ সত্যি বলব? স্বপ্ন দেখা, স্বপ্ন বেচা, আমার পেশা না নেশা তাই জানিনা!
আসছে সপ্তাহে আমাদের সন্ধ্যার আড্ডায় আবার কী নিয়ে দক্ষযজ্ঞ বাঁধে দেখি! চিন্তা করবেন না, একেবার সেই বিষয়টা নিয়েই চলে আসব আগামী সপ্তাহে ” পেয়ালা পিরিচ ও একটি সন্ধ্যা”-র পরের পর্বে৷ ভালো থাকুক সকলে৷
*বিঃদ্রঃ পেয়ালা পিরিচ সহযোগে সন্ধ্যায় আপনিও জমিয়ে আড্ডা মারুন