সাপ্তাহিক ধারাবাহিকা -তে পলাশ চৌধুরী (পর্ব – ১৪)

স্টেজের পাশেই স্বয়ংসিদ্ধা

চর্তুদশ পর্ব

অবশেষে সেই ভুলের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে নীহার, প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের কাটা ছেঁড়া সেরে তৃতীয় স্থানে বসিয়েছিল তার প্রেমিকাকে। তৃতীয় পর্বের লেখায় এসে ভুলচুক, নিষিদ্ধ পাপ, জনতার কলকল, সব ফিকে হয়ে যায়। ফিকে হয়ে যায় পুরস্কার বা সু এর খ্যাতি জনিত ব্যাধি। কলহহীন অথচ কলহ সৃষ্টির লেখা আসে এই পর্বে। এখানে কোনো দায় থাকে না লেখার উপর, শুধু নির্ভার একটা যাপন পড়ে থাকে, জ্যাবড়ানো মতো। বহু পার্থক্য জনিত মেঘ সরে গিয়ে শুধু বৃষ্টি নামে, না ভিজেও জানালা থেকে দেখা যায় বা অনুভব করা যায় এরম একটা ব্যাপার। প্রেমিকাকে কোলোস্থ করে স্ফীত মহাবিশ্ব লেখছে অথচ কোনো অনুভূতি, আবেগ ছাড়ায় শুধু একটা খোঁজ —
“নীর আলয় আলস্যে এক
নির-দোষ সেপাইয়ের স্পাই
থ্রিলারের পঙ্গুত্ব বরণ
রাখা রাত আর শুধু ঘুম নাই”
কবিতা জয়ের কোনো ইতিহাস নয়, জয়ীরা কবিতার কেউ নয়। তবু পরাজিত করার একটা প্রয়াস থাকে যেখানে শুধু সত্যই বলা যায়—
“তোমাকে হারাতে প্রিয়
তর্পণ করেছি নিজেরই ত্রিকাল “
এভাবেই কবিতার সাথে সহবাস করতে হয় এবং নিজের সহায়তা। কবিতাকে যত নিজে লিখছি ভেবে বা আমার সৃষ্টি ভেবে যাবে কবিতা তত দূরে সরে যাবে। আসলে কবিতা একটা পরাজিত ইতিহাসের মতো যা আগের থেকেই বর্তমান এবং তার আবিষ্কার অসম্ভব।

ক্রমশ…

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!