শিক্ষা ছাড়া মানুষ তৈরি হয় না, আর মানুষ ছাড়া দেশ গড়া যায় না । তাই যে দেশে যত শিক্ষিত মানুষ হবে, ঠিক তত উন্নত হবে দেশটি । প্রথমত একটি শিশু মায়ের কাছ থেকে প্রথম শিক্ষা নেয় । মোটামুটি ভাবে বুঝতে শিখলে পরে, তাকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয় পুঁথিগত শিক্ষার জন্য । এরপর শিক্ষার একটি দীর্ঘ প্রয়াশের পর একজন শিক্ষিত মানুষ তৈরি হয় ।
বর্তমানে শিক্ষার শুরুটা খুবই ছোট্ট অবস্থা থেকে শুরু করা হয় । বলা যায় একটি শিশু তার শৈশবের মজা নিতে পারে না । ছোট থেকেই পড়ার চাপে এত ব্যস্ত থাকে যে মন খুলে বাঁচতে পারে না । শুধু কি পড়াশোনা ? সাথে অারো অনেক কিছু শেখার জন্য তাকে বাধ্য করা হয় । তার ভালো লাগুক কিংবা না লাগুক ।
দেখা গেছে যে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাটা একটা প্রতিযোগিতা মূলক । আর এই প্রতিযোগিতা থাকার ফলে আজকের শিশুরা প্রচন্ড চাপে থাকে । অনেকে আবার এই চাপ সহ্য করতে না পেরে ; অপ্রিয় কিছু ঘটনা ঘটিয়ে ফেলছে । একটা শিশু পুঁথিগত শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও তারা মানসিক উন্নতি কিন্তু হচ্ছে না । ভালোবাস ও আন্তরিকতা তাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না ।
আজকের সমাজে ছোট পরিবারে একটা কিংবা দুটো সন্তান থাকার ফলে, তারা সবার সাথে মিলেমিশে চলার পদ্ধতিটা শিখতে পারে না । তারা একা থাকতে ভালোবাসে । অার খুব জেদী ও স্বার্থপর হয়ে উঠছে । একটি শিশু পরিবারে একা হবার জন্যই, অতিরিক্ত আদরে তারা মানুষের থেকে বেশি অমানুষ হয়ে যাচ্ছে ।
তাই আমাদের ভাবতে হবে আগামীর পৃথিবী গড়ার জন্য, একটা শিশুকে কেমন ভাবে শিক্ষা দিয়ে মানুষ করতে হবে । পড়াশোনাতো থাকবেই সাথে তার মানসিক দিকটাও উন্নত করতে হবে । যেটা পরিবার ও সবার সাথে মিলেমিশে থাকলে পরেই শেখা যায় । শৈশবটাকে ওদের ভোগ করতে দিতে হবে ।
সরকারি ভাবে শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে । আর্থিক ভাবে যারা দুর্বল তাদের সাহায্য করতে হবে । আর যে শিশু যেটা ভালোবাসে তাকে সেটা করার সহায়তা করতে হবে । জোর করে কোনো কিছু শেখানো সঠিক হবে না । নতুন প্রজন্মে যারা আসছে, তাদের ভালো করে মানুষ করতে পারলেই এই পৃথিবী আরো সুন্দর হবে ।