লে ছক্কায় (নির্বাচিত কবিতা) রতন বসাক
১। আহ্বান
চল ছেলেরা চল মেয়েরা
শিক্ষালয়ে চল,
এখন থেকে মনটা দিয়ে
শিখব মোরা বল ।
কষ্ট যত হোক না তাতে
শিখেই নেব সব,
ধনী গরীব সবাই মিলে
উঠা এমন রব ।
শিক্ষা ছাড়া নাই তো মান
সারা জীবন ধরে,
আয় না ফেলে সামনে সব
দেখাই কিছু করে ।
শিক্ষা পেলে মনটা হবে
অনেক বেশি ভালো,
আটকে থাকা হৃদয় ভরা
সরিয়ে দিয়ে কালো ।
তবুও কেন মুখ ফিরিয়ে
থাকিস তোরা সবে,
আয় না চলে মনের জোরে
দেখাই করে ভবে ।
২। সবার কথা ভাবো
স্বার্থ নিয়ে আছি সবাই এই ভবের মাঝে
একলা চলা নিজের মতে থাকাটা সেকি সাজে ?
সবার দেহে এক রঙের রক্ত আছে লাল
খোঁজ নিই না কখনো কারো কেমন কার হাল ?
আপন সুখে থাকার কথা ভাবি আমরা সব
কষ্টে কারো দিন কাটলে উঠাই নাতো রব ।
ভালো থাকার জন্য সদা করছি কত নাশ
ভয় পাই না নিজের কাজে দিতে কাউকে বাঁশ ।
প্রভুর দয়া পেয়ে আমরা আসি এমন ভবে
তাঁর ইচ্ছা ভালো মন্দে সদাই থাকি সবে ।
তবু হৃদয়ে হিংসা ভরে স্বার্থ নিয়ে চলি
মুখেই শুধু জ্ঞানের কথা দেখা হলেই বলি ।
অর্থ গুলো কামাই করে জমিয়ে রাখি ঘরে
বিপদ কালে আমার কাজে আসবে ভেবে পরে ।
এত জমাই সেই কারণে চিন্তা মনে বাড়ে
চুরির ভয়ে ভোগ না করে জীবনটা যে হারে ।
কত টুকুই অর্থ লাগে বাঁচতে হলে ভাই
তারই থেকে একটু করে দানটা করো তাই ।
সবাই মিলে থাকলে সুখে এটাই হয় ভালো
সামনে এসো মুছে ফেলেই মনের যত কালো ।
৩। আমার মা
আজও মনে পড়ে আমার
সেসব কথাগুলো,
মা’য়ের সাথে খেলে যেতাম
মেখে মাটির ধুলো ।
দূরের থেকে ছুটে এলেই
তখন কোলে নিতো,
মা যে আমায় আদর দিয়ে
মনটা ভরে দিতো ।
দুষ্টুমিটা করলে পরে
চেপে ধরতো বুকে,
কেনো এমন করিস খোকা
বলতো হেসে মুখে ।
সকাল হলে ঘুমের থেকে
আমায় দিতো তুলে,
ওঠ না খোকা হচ্ছে দেরী
যাবি এখন স্কুলে ?
খাবারগুলো খাইয়ে দিতো
নিজের হাতে মা যে,
সারা সময় লেগে থাকতো
ঘরের কোনো কাজে ।
৪। সম ভাবে
রোজ সকালে ওঠার পরে
ভেঙে আমার ঘুম,
পূব আকাশে চেয়ে দেখি
আলো ভরা ধুম ।
দুপুর বেলা মাথার উপর
ছাতার মতো রয়,
সেই কারণে নিজের ছায়া
অনেক ছোট হয় ।
সন্ধ্যা হলেই কোথায় যেন
হারিয়ে সে যায়,
আশেপাশে যেদিক দেখো
অন্ধকারে ছায় ।
এই জগতে তাঁর রশ্মিতে
জীবন করে দান,
সবার ভিতর সুস্থ সবল
জেগে ওঠে প্রাণ ।
সম ভাবে আলো দেবে
সারাটাদিন সে,
জাতি ধর্ম ধনী গরিব
জানতে চায় না কে ?
৫। ঘোড়ায় চড়ে
ছোট্ট মেয়ে খেলছে ঘরে
সঙ্গে নিয়ে তার ভাই,
খেলতে গিয়ে মনে তাদের
আনন্দের সীমা নাই ।
ঘোড়ায় চড়ে চলছে জোরে
নিজের মতো করে আজ,
যাবেই তারা দূর পাহাড়ে
পড়ুক যতো পথে বাজ ।
ভাইটি তার পাচ্ছে ভয়
বলছে তারে চেপে ধর,
একটু দাঁড়া ভয়টা ফেলে
দেখতে পাবি সহা কর ।
সেথায় গিয়ে দু’জন মিলে
উঁচু পাহাড় পাবো সব,
চলছি মোরা ঘোড়ায় চড়ে
করিস নাতো কোনো রব ।
টগ্ বগিয়ে আমার ঘোড়া
ছুটছে দেখ কতো সুখে,
তোর থেকে যে অনেক ভাল
কোনো কথাই নেই মুখে ।
৬। মুখে নয় কাজে
সবার আগে যে দেশ এটা মনে রেখো
ধনে উঁচু নিচু ভুলে সবে মিলে দেখো,
এক সাথে রবে সদা বাধা গুলো এলে
মিলেমিশে কর্ম করে সফলতা মেলে ।
ভালবেসে দেশে থাকো প্রেম ভাব নিয়ে
ফাঁকি ছেড়ে কাজ করো পুরো মন দিয়ে,
কেউ যদি মন্দ কাজ করে জেনে বুঝে
দেশ থেকে বের করে দাও তারে খুঁজে ।
ভুল কভু হতে পারে করা কোনো কাজে
তার তরে নিজ মনে ভেবো নাতো বাজে,
মেনে নিয়ে ভুলটাকে আগে করো ঠিক
করে গেলে মন থেকে পেয়ে যাবে দিক ।
ধর্ম কর্ম করো মিলে হিংসা সব ভুলে
পাশে থেকে ভালবেসে বাঁচো মন খুলে,
ক’দিন পরেই ডাক এসে যাবে তাঁর
তবু কেনো মুখটাকে করে রাখো ভার ?
চলো যাই দেশ গড়ি থাকি আরো সুখে
কাজ করে বলো তবে নয় শুধু মুখে ।
পিছে কেনো থাকো ভাই এসো ভালবেসে
মনে যদি জোর থাকে জিত পাবো শেষে ।