T3 || স্বাধীনতার খোঁজে || বিশেষ সংখ্যায় রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়

ঋণ

দুশো বছরের গোলামি যখন গুলি বন্ধুক চাবুকের মার, বুলেট ঝাঁঝরা বুক,
তখন ওদের রক্তের স্রোতে তুষের আগুন দাবানল হয়ে জ্বলুক৷
চিহ্নিত ঐ শত্রুদের পুড়েছে চামড়া, গন্ধ এসেছে
রক্তে জেগছে নেশা,
এতকাল যারা ওদের ভেবেছে ক্লীব, পিশেছে জুতোর তলায়, কেড়েছে ভাত, কিনেছে স্বপ্ন,
জমেছে লাশ, হাড়গোড়, বেড়েছে শ্মশান কুকুর শৃগাল,
অথচ তাদের নিয়তিকে আজ গিলে খাবে ওরা, বাতাসে বেজেছে বিজয়ের ঢাক, চিতাগুলো প্রস্তুত৷
মৃত্যুকে ওরা তাম্বুল ভেবে চিবিয়েছে দেখ দাঁতের পেষণে, রক্তে দিয়েছে অঞ্জলি,
বুলেটে ঝাঁঝরা বুকের পাঁজর, আপনজনের অস্থি ভেসেছে জলে,
লাশের পাহাড়, ডিঙিয়ে চলেছে, আগুন গিলেছে, তবু আলগা করেনি মুঠো,
ও মুঠোতে ধরা মায়ের কলজে, পরনের শাড়ি, আমার পতাকা, তোমার পতাকা ৷
স্বাধীনতা তুমি দিয়েছ অনেক, নিয়েছ প্রাণের দাম, রক্তের স্বাদে মিশে আছে, তোমার পেয়গাম,
এতকাল পর শান্ত শহরে, তবুও নগ্ন মায়ের চরণ, শুকনো বুক, মলিন মুখ৷
স্বাধীনতা আজ কী বেশে এসেছে ! এই কি ছিল চাওয়ার পাওয়ার !
শুধু পন্ডশ্রম, মৃত্যু মিছিল, শহীদের লাশ, রক্ত গঙ্গা !
অত্যাচারীর এক মুখ আজ শতমুখ হয়ে ত্রাস ছড়ায়,
শোষণ এখন অন্তর্গত, ভাইয়ের লাশে ভাইয়ের জয় ৷
এ কাঁধে আজ, জমেছে যে ঋণ, শুধতে হবে তা আজন্মকাল
এ ঋণের ভার শুধব কীভাবে ! ঋণেতে ঋণী হয়ে কন্ঠ সমান,
এ লজ্জা ভারি ! দায় তো সবারই, পাওনা আমার শুধু ধিক্কার৷
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।