T3 || স্বাধীনতার খোঁজে || বিশেষ সংখ্যায় রতন বসাক

যতই কঠিন হোক স্বাধীনতাকে খুঁজে বের করবেই

জীব জগতে মানুষ থেকে প্রত্যেকটি পশুপাখি জন্তু জানোয়ার সবাই নিজের মতো বেঁচে থাকতে চায় এই পৃথিবীতে। তাঁর চলার পথে অর্থাৎ দৈনিন্দন জীবনে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াক, তা কোনো সময় কেউ চায় না। ভালো কিংবা মন্দ যাই হোক না কেন; সে নিজের মতো নিজের জীবনকে নিয়ে যেতে চায়। অন্য কেউ এসে তার চলার পথে হস্তক্ষেপ করুক, সে কোনো সময়ই চায় না।
স্বাধীনতা প্রত্যেকটি জীবই পুরোপুরি উপভোগ করতে চায় সবসময়। স্বাধীন হয়ে নিজের মতো বাঁচার আনন্দই আলাদা। না খেয়ে খালি পেটে মানুষ থাকতে পারে কিন্তু স্বাধীনতা ছাড়া কোনো সময় সে থাকতে পারে না। কোনো জীব কিংবা মানুষকে পরাধীন করে রেখে তাঁকে যদি ভালো ভালো খাবার দেওয়া হয়, সে কিন্তু সেটা কোনো সময়েই পছন্দ করবে না। পরাধীন হয়ে কয়েক দিন মাত্র থাকা যায়, সারাজীবন থাকা কোনোমতেই সম্ভব নয়।
এটা দেখা গেছে যে মানুষ কিংবা কোনো জীব পরিস্থিতির জন্য, অনেক সময় পরাধীন জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়। তাঁর কাছে অন্য কোনো উপায় সেই সময় থাকে না বলেই, পরাধীন জীবনটা মেনে নেয় বেঁচে থাকার জন্য। তবে সেই পরাধীন জীবন যাপন করাটা মেনে নিলেও অন্তরে অন্তরে কিন্তু উদ্বিগ্ন হতে থাকে স্বাধীন হবার জন্য। সে পরাধীন হয়ে বেঁচে থাকে কিন্তু মনে তার শান্তি একটুও থাকে না।
যে কারণেই হোক না কেন পরাধীন থাকার সময় নিজের মনে প্রস্তুতি নিতে থাকে স্বাধীন হবার জন্য। এর জন্য তার জীবনে অনেক বাধা বিপত্তি আসতে থাকে। অনেক কষ্টও তাঁকে সহ্য করে মেনে নিতে হয়। কিন্তু সে মনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করে নেয় যে আমাকে স্বাধীন হতেই হবে। এর জন্য পথে যতই বাধা আসুক আমি তা মেনে নিতে প্রস্তুত আছি। অতএব পরাধীন থাকার শেষ সীমানায় পৌঁছে, এদিন বিদ্রোহ করে দেয়।

সে সেই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে দিয়ে স্বাধীনতার খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। তাতে যদি তাঁর প্রাণও যায়, সে তার জন্য প্রস্তুত থাকে কিন্তু পরাধীন হয়ে আর থাকতে চায় না। অনেক কঠিন পথ পেরিয়ে আসার পর স্বাধীনতা পায় সে নতুন করে। সে এক লম্বা পথ অতিক্রম করতে হয় স্বাধীনতাকে ফিরে পাওয়ার জন্য। এই খোঁজের সাফল্য যদিও খুব সহজ ভাবে আসে না। তবুও সে সবকিছুকে মানিয়ে নিয়ে স্বাধীনতাকে খুঁজে বের করবেই।

স্বাধীনতাটা ব্যক্তিগত হতে পারে আবার সামগ্রিকভাবেও হতে পারে। অনেক সময় দেখা গেছে যে, একটা দেশ অন্য দেশের আয়ত্ত্বে চলে গিয়ে পরাধীন ভাবে জীবন যাপন করে। দেশের মানুষ তখন নিজের ইচ্ছে মতো আর কিছুই করতে পারে না। অন্যায় ও অত্যাচারের আঘাত সইতে সইতে একদিন স্বাধীন হবার জন্য আবার বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এর জন্য অনেক রক্ত ও প্রাণের বলিদান দিতে হয়। এতে ভয় না পেয়ে নতুন করে স্বাধীনতাকে খুঁজে পাবার জন্য এগিয়ে চলে এবং একদিন শেষে সফলও হয়।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।