প্রবন্ধে রতন বসাক
” শরৎ এলেই পুজোর গন্ধ ও খুশির হাওয়া বইতে থাকে “
আমাদের এখানে বারো মাসে ছটা ঋতু একটার পর একটা আসতে থাকে । সেই ঋতু গুলোর মধ্যে শরৎ ঋতু, তার একটা বিশেষ অবদান রাখে আমাদের জীবনে । এই সময়ে বর্ষার শেষে অল্প অল্প ঠান্ডা ও অল্প অল্প গরম বেশ মনোরম এক পরিবেশ সৃষ্টি করে । আকাশে বাতাসে যেন একটা পুজো পুজো ভাবের গন্ধ অনুভব করা যায় ।
আমরা প্রত্যেকটা ঋতুই সবাই খুব ভালোভাবেই অনুভব করতে পারি । প্রত্যেকটা ঋতুই গড়ে দু’মাস করে চলতে থাকে । বর্ষাকালটা শেষ হবার পরেই শরতের আগমন হয়ে যায় । অল্প অল্প বৃষ্টিপাত যদিও চলতে থাকে । তবে শরতের একটা নির্মল উজ্জ্বল ঝলমল আকাশ দেখা যায় এই সময়ে ।
দূর-দূরান্তে জমির আলের ধার দিয়ে কাশফুলের দেখা মেলে । সবুজ ঘাসের ওপর শুভ্র সাদা কাশফুল দেখতে বড়ই ভালো লাগে । আকাশ বাতাস জানান দেন যে পুজো আসছে । পাড়ায় পাড়ায় তার একটা প্রস্তুতিও নজরে আসে আমাদের । প্রত্যেকটা মানুষের মনেই যেন একটা খুশি খুশি ভাব দেখা যায় ।
বর্ষাকালের বৃষ্টিপাত হওয়ার জন্যেই পথ ঘাট মাঠ সব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে যায় । চারিদিকে একটা সুন্দর সবুজের আবরণ দেখা যায় । এই শরতে হালকা হালকা একটা ঠান্ডা ভাব অনুভূত হয় । আমার মনে হয় শরৎকালটাই স্বাস্থ্যের ও মনের জন্য খুবই উপযোগী । কেননা এই সময়ে পরিবেশ খুবই স্বচ্ছ, পরিষ্কার ও সবুজাভ থাকে ।
শরতকালের প্রধান আকর্ষণই হলো শ্রী শ্রী দুর্গা মায়ের পুজোর কটাদিন । প্রত্যেক পাড়ায় তার জন্য ব্যস্ততা দেখা যায় । কোন পাড়া কত ভালো করে প্যান্ডেল ও লাইট সাজিয়ে মায়ের পুজো করবে, তার একটা প্রতিযোগিতা চলে । প্রত্যেকে তার নিজের বাড়িঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সাজিয়ে রাখে এই সময় । বাজারে কেনাকাটির ধুম পড়ে যায় ।
শরতের আগমনে আকাশে, বাতাসে ও সবার মনে পুজোর একটা হালকা ছায়া অনুভব করা যায় । মানুষের মনটাও যেন খুশী খুশী ভাবে ভরে যায় । এই সময় ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের পড়াশোনারও খুব একটা চাপ থাকে না । সবাই যেন আনন্দের খুশিতে বইতে থাকে । ছোটরা নতুন জামা, কাপড় ও জুতো কিনে খুবই খুশিতে থাকে । এই সময়টা নাতিশীতোষ্ণ হওয়ার জন্য রোগের প্রাদুর্ভাবও কম হয় । তাই শরৎকালটা আমারও ভীষণ ভালো লাগে ।