সৌরভ চন্দ্রকে আমি কবি হিসেবে যত না পড়েছি, তার চাইতে বেশি পড়েছি, মানুষ হিসেবে। দক্ষ সংগঠক আর সঞ্চালক হিসেবে। দরদী মনের এক সাহায্যকারী দাদা হিসেবে। অনেক তরুণ কবি, সম্পাদক ও প্রকাশককে পাদপ্রদীপের আলোয় তুলে এনেছিল সৌরভ। যেহেতু ওর একটা রাজনৈতিক বিশ্বাস ছিল, অনেক সাধারণ বিপদগ্রস্ত মানুষ সাহায্যের জন্য আসত। হাসি মুখে সবাইয়ের জন্য যথাসাধ্য করত। আমার বলতে দ্বিধা নেই, যখন বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি সাহিত্য অনুষ্ঠানে ডাক পেতাম না, স্বল্প পরিচিত সৌরভই আমার হয়ে বলেছিল বিভিন্ন জায়গায়। তখন আমার কবিতার সঙ্গে ওর পরিচয় ছিল, কিন্তু ব্যক্তি আমিকে তেমন চিনত না। এর থেকে প্রমাণ হয় ওর কবিতার প্রতি নিবিড় টান আর নিরপেক্ষ প্রতিবাদী সত্তা। আমার কবিতা ও বহুবার বিভিন্ন মঞ্চে পড়েছে, এমনকি লকডাউন পিরিয়ডে ও ফেসবুকে যে লাইভ কবিতা পাঠের অনুষ্ঠান করেছিল সেখানে সাম্প্রতিক সময়ের সব সিনিয়র ও তরুণ কবির কবিতা সমান গুরুত্ব দিয়ে পড়েছে। কবিতার প্রতি এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর কবিদের প্রতি তার বিনম্র অনুরাগ আমাকে সৌরভের প্রতি চিরকাল শ্রদ্ধাবনত রাখবে। মারণ ভাইরাসের আক্রমণে তার এই অকাল প্রয়াণ, তার পরিবার, বন্ধু- আত্মজনের মত সাহিত্য জগতেরও অপূরণীয় ক্ষতি হল। আমি এই লড়াকু সংগ্রামী কবিতাপ্রাণ সৌরভ চন্দ্রকে কুর্নিশ জানাই।