প্রবন্ধে রতন বসাক

সাহিত্যচর্চার জগতে এক নতুন জোয়ার এসেছে

বহু প্রাচীনকাল থেকেই সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছে । সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষ তার মনের আবেগ ও ছবিকে ফুটিয়ে তোলে । আর সেটা যুগ-যুগ ধরে বহু মানুষ যাতে পড়তে পারে ; তার জন্য খাতায় কলম দিয়ে লিখে রাখার পদ্ধতি ছিল কিছুকাল আগে পর্যন্ত । সেই সৃষ্টিগুলো আজও আমরা কোন পাঠাগারে গেলেই দেখতে পারি খুব সহজে ।
সময়ের পরিবর্তনের সাথে-সাথে মানুষের সব কিছুরই পরিবর্তন হয়, আর এটা স্বাভাবিক । পরিবর্তনকে মানিয়ে নিয়ে আমাদের আগে চলতে হয়, আর না হলে পিছিয়ে পড়তে হয় । তাই সাহিত্য জগতেও একটা বিরাট পরিবর্তন এসে গেছে বর্তমানে । বিজ্ঞানের অত্যাশ্চর্য আবিষ্কার মোবাইল অর্থাৎ মুঠোফোন । এই ফোনের মধ্যে আবার বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস আছে । তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ” ফেসবুক ” ।
আমার মনে হয় সাহিত্য চর্চা বিশ্বে এখন আর খুব একটা খাতায়-কলমে সীমাবদ্ধ নেই । বাংলা তথা সমগ্র বিশ্বে এখন সাহিত্যচর্চা আমরা এই ফেসবুকে দেখতে পাচ্ছি খুব সহজেই । ছোট ছোট বিভিন্ন গ্রুপ তৈরি করে সেখানে সাহিত্য চর্চা করা হচ্ছে । কিছু উদার মনের মানুষ তাদের মূল্যবান সময় দিয়ে এই সাহিত্যচর্চাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে । লেখক ও পাঠকের সমন্বয়ে সাহিত্য চর্চা চলছে আজকের যুগে ।
ফেসবুকের এই সাহিত্য চর্চার গ্রুপগুলো বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে । ছড়া, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও আরো বিভিন্ন ধরনের লেখা তারা আহ্বান করে লেখকদের থেকে । দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে এই আবেদনগুলো । লেখকরা তাদের সৃষ্টি পোষ্ট করে বিভিন্ন গ্রুপে তার বিচার সঠিকভাবে পেয়ে যায় । সম্মানীয় পাঠকদের মতামতের উপর ভিত্তি করেই লেখকরা তাদের উৎকর্ষতা আরো বাড়ানোর চেষ্টা করে ।
ফেসবুকে সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে নতুন নতুন প্রতিভার বিস্ফোরণ আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রতিদিনই । সুপ্ত প্রতিভাগুলো নিঃসঙ্কোচে বেরিয়ে আসছে ফেসবুকের দৌলতে । নতুন লেখকরা তাদের সৃষ্টির বিচার গ্রুপের এডমিন কর্তৃপক্ষদের ও পাঠকের থেকে পেয়ে খুশি হয়ে আরও লেখার চেষ্টা করছে । এইভাবে দেখছি ফেসবুকের জন্যই সাহিত্য জগতে একটা নতুন জোয়ার এসে গেছে ।
ফেসবুকে সাহিত্যচর্চা আসার ফলে এখন বর্তমানে দেখতে পাচ্ছি যে, লেখক এর সংখ্যা অধিক পরিমাণে বেড়ে গেছে । এটা একটা সত্যিই ভালোর দিক, কেননা নতুন নতুন সৃষ্টি হচ্ছে সাহিত্য জগতে । সাহিত্য কিছুটা কল্পনা ও বর্তমান পরিস্থিতির ছবি তুলে ধরে, যা আগামীর প্রজন্ম জানতে পেরে ধন্য হয় । কিছু নিচু মনের মানুষরা এই ফেসবুকে সাহিত্যচর্চাকে ভালো নজরে নিচ্ছে না আজও । জানিনা কি তাদের যুক্তি এর পেছনে ? সাহিত্য চর্চা সে হাতে লিখেই হোক কিংবা ফেসবুকেই হোক, চর্চাতো হচ্ছে সাহিত্যকে নিয়ে । তবে অসুবিধাটা কোথায় ?
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।