সম্পাদিকা উবাচ

দীর্ঘদিন পড়াশোনা নিয়ে পুতুলখেলা করার পর আজ হঠাৎ স্কুল কলেজের দরজাগুলো খুলে যাবে শুনেছি৷ মত থাকলেই থাকবে মত-বিরোধ৷ টীকা থাকলেই থাকবে টিপ্পনী৷ পড়া পড়া খেলা অনলাইনে চলল দীর্ঘদিন৷ কী করারই বা ছিল? আবার একবার প্রমাণ হল জীবন সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ৷ শিক্ষা ঐশ্বর্য সুনাম খ্যাতি সব কিছুর উর্ধ্বে বাঁচা ও বেঁচে থাকার নেশা৷
মানুষজাতিকে যদি অষ্টম আশ্চর্য বলা হয় তবে অত্যুক্তি করা হবে না৷ মৃত্যু ভয় নিয়ে যে মানুষ জীবনের তাগিদে স্কুল বন্ধ কলেজ বন্ধ অফিস বন্ধ করেছিল, সেই মানুষই বুর্জ খালিফা দেখতে থিকথিকে ভিড় করল৷ পুজোর মধ্যে মাস্ক ছাড়া যত্রতত্র ঘুরে বেড়াল৷ আহা ঐ মুহূর্তে তাদের দেখে মনে হচ্ছিল আবার ফিরে গেছি সেই দিব্য দিনগুলোতে যখন ছিল না কোভিড ছিল না মুখোশ ! সেই ” আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম “৷ কিন্তু পুজো কাটতে না কাটতেই বুঝলাম ধারনা ঠিক ” কাঠালের আমসত্ত্ব ” কিংবা ” ল্যাটা মাছের তেল কইয়ের মত” ৷
এখানেই শেষ নয়, চক্ষু ছানাবড়া হল যখন দেখলাম ঐ বুর্জ খালিফার সামনে দাঁড়ানো মাস্ক বিহীন মানুষগুলোই আবার আজকে স্কুল কলেজ খোলার তীব্র বিরোধিতা করছে দেখে…
জানিনা এরপর আবার আমাকে রাজনৈতিক ভাবে পক্ষপাতদুষ্ট বলে চিহ্নিত করবেন কিনা ! আমি ছাপোষা মানুষ দুটো করে মাস্ক পরি৷ বুর্জ খালিফা কেন কোন মন্ডপেই ভিড় ঠেলে ঢুকিনি৷ দূর থেকেই জোড় হাত করে মাথায় ঠেকিয়ে নম করে নিয়েছি৷ তবে ছেলেমেয়েগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সত্যিই সন্দিহান৷ এই বাড়িতে বসে পড়ে, পরীক্ষা দিয়ে যারা পাস করল তাদের বিদ্যার ওপর দক্ষতার ওপর ভরসা করে বিভিন্ন সংস্থা চাকরিতে নিয়োগ করবেন তো তাদের ??
একটু ভেবে দেখবেন৷
সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন পড়তে থাকুন লিখতে থাকুন৷
রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়