কবিতায় স্বর্ণযুগে প্রদীপ সরকার (গুচ্ছ কবিতা)

১| মাধবের ঈর্ষা হবো
ভেসে গেছি ঢেউয়ের মাথায় চড়ে দুর্বার স্রোতে
আমি খড়কুটো নই, নই উড়ে আসা ছাই,
অভিমানে ছিঁড়ে ফেলা মালার ফুলও আমি নই,
আমি দিনশেষে ঝরে পরা কৃষ্ণচূড়ার রাঙাফুল
ভালোবাসার তৃষ্ণা বুকে জাগিয়ে রেখে
যমুনায় ভেসে যাই, গন্তব্য কালিয়াদহের নদীকূল।
কোনোদিন চৈত্রের উদাসী সন্ধ্যায়
মথুরার হাট ফিরতি বিনোদিনী রাই
তুলে নিয়ে পরম প্রেমে যদি গেঁথে নেয় বেনিবন্ধে,
গুঁজে নেয় মাধবীবিলাস বাহারি খোপায়;
মাধবের ঈর্ষা হয়ে রয়ে যাবো
বৃষভানুনন্দিনির নন্দিত ভালোবাসায়।
২| স্রোতের অভিমুখে প্রেম
পূর্ণিমায় চাঁদের যৌবন দেখে
সইতে পারেনি হিংসুটে অন্ধকার
ঈর্ষায় ঘুণপোকা গুঁজে দিয়েছিলো ওর বুকে
দিনে দিনে ক্ষয়ে যেতে যেতে
অমাবস্যার অন্ধকারে হারিয়ে গেছিলো সে।
ভালোবাসা উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটেছে এদিক ওদিক
নিরন্ধ্র আঁধারে খুঁজে পায়নি চাঁদের সাকিন
বাতাসে ছড়িয়ে দিয়েছে মনের ব্যাকুলতা
হাওয়ার স্রোত তারে পৌঁছে দিয়েছে চাঁদের বুকে
উছলে উঠেছে জ্যোৎস্না আবার আকাশে।
৩| শুধু পুরোনো বলেই
পুরোনো তেঁতুল বা পুরোনো ঘি র মতো
সব পুরোনোই মহার্ঘ্য হয়না;
সময়ের জুয়ায় পুরোনোদের স্থান আস্তাকুঁড়ে।
দলিল দস্তাবেজ পুরোনো হলে সংগ্রহশালায়,
বাজেয়াপ্ত দ্রব্যের জন্য মালখানা আছে।
পুরোনো সম্পর্কগুলোর কোনো বৃদ্ধাশ্রম নেই;
কিছু পুরোনো ভালোবাসা মূল্যবোধে আটক
সেখানে সরাইখানার মতো ঘর জোটে দু একদিন
তারপর একলা পথে আবার মুসাফির।
আজও বাতিঘরের আলোকস্তম্ভের মতো
মনে হয় তার দুটো চোখ,
কোনোদিন মুসাফির হ’লে খুঁজে নেবে
ডেকে নেবে পুরোনো নাম ধরে
শেষ পান্থশালার কোনো কক্ষে;
সেদিন পুরোনো ঘি বা তেঁতুলের মতো নয়
বিক্রমাদিত্যের একান্ত স্বর্ণমুদ্রার চেয়ে
মহার্ঘ্য হবে সে প্রহর; হয়তো শুধু পুরোনো বলেই।