।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় পৃথা রায় চৌধুরী

জন্ম

তবে যে হতে পারনি রন্ধ্রে রন্ধ্রে সৌদামিনীবীজ,
এক হাতে অবদমনের সংলাপ বয়ে বেড়িয়ে, ফেটে পড়ো উল্লাসে
মৃদুরোশনি মেঘের এক বিকেল
ঠুমরীতে ধোঁয়া আঁচে ফুটে ওঠে
স্বর্ণমৃগের অবাধ চেতনামঞ্জরীর চাপল্য।
রবি ঠাকুরের আধা দেড়া লাইন নিয়ে লোফালুফি করতে গিয়ে
গড়ে ফেলেছো প্রসূতিসদনের নূপুর নূপুর শিশুমালঞ্চ।

কাশ – নিষাদ

আড়াল খুঁজে খুঁজে ঘুরি হে গোঁসাই, ডাকলে কাকে?
সে নগরের পথেঘাটে ঘোরে বসন্তবাহারের সিলভার লাইনিং
একসাথে ঝড়ে আসে গোলাপি সুরের কিশোরী হৃদয়,
তুলসীমালা ঘুরে চলেছে জপের গঞ্জ, একবার হেঁকে বলো দেখি,
কে রাখে?
চিড়িয়া বিলের ধারে বারশিঙ্গা মৌজের শাখা,
বারণ মানো না ফুরিয়ে এলে বেলা;
কবজি উলটে দেখাও বালিঘড়ির প্রেম-বিরহ
কাশের বনে ঘুঙুরের বায়নাক্কা জুড়ে একপ্রস্থ এলাটিং বেলাটিং
রূপটান নেই যে ঘরের, তার দরজা দখল করে রাখে এক তোমার আরশি
উড়ে যায় ধনেশ, ফিঙে।
মন্থনের পথ ভরেছে শামুকের খোলে,
ডালিমদানা গেঁথে গেঁথে সুর সাধা বোষ্টুমীর সাগরকাঁচুলি
মহাকালের গুহা থেকে প্রকাশ্যে আসে আদিকরোটি
এখানে লেখা নেই কোনও নাম,
পিছিয়ে যেতে যেতে হাত পেতে রাখা এক ভিক্ষুক মায়াপুঞ্জের কাছে সমর্পণ
প্রশ্ন আসে, তোমার আত্মার প্রাণী কে?
এক বিলাসী অন্তরা আঁকবো, পলাশপ্রাসাদ ঘিরে আনন্দ পরিখা
তৃতীয় নেত্র সজাগ হয়ে আছে কোথাও ময়ূরজমি;
উড়াল দিই, ডানামেলা পশ্চিমা ছন্দে জুড়ে দিই ধানজমিবজরা
বজ্রের আভাস পেয়ে স্বপ্ননদে ডুব দাও গোঁসাই, আবার?
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।