মার্গে অনন্য সম্মান পরী (নন্দিতা দে) (সর্বোত্তম)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা নং – ১২৬
বিষয় – নতুন সাজে প্রকৃতি
রসবোধে নৈসর্গিকতা
ধরণী তাহার অপার স্নেহে নৈসর্গিকতা আনিয়াছে অগণিত কাল ধরিয়া,
সেই কালের ধারায় স্নাত হইয়াছি স্রোতে বহিয়া।
পৃথিবী,ষষ্ঠ ধারায় আবর্তিত হইয়া উঠে কালমন্ত্রে;
আমিও ইহার স্বাদ আহরিত করিয়া আপ্লুত স্পর্শতন্ত্রে।
গ্রীষ্মকালীন প্রখর দাবদাহ অন্তরকে জ্বালায়ে করে ছারখার;
ঘর্মাক্ত তনুতে খুঁজি ফিরি শান্তি বৃক্ষ-
ঈশান কোণে ঘন কালো মেঘের হাতছানি-
কালবোশেখী রুপে আছড়ে পরিয়া রুক্ষতাকে করে কটাক্ষ ,
আমি ভাবি ইহা তোমার কি তান্ডব সাজ ;
একাধারে করো লন্ডভন্ড অন্যধারে দমন করো তপ্ত ধরিত্রী রাজ ।
প্রতি দ্বিমাসিক ছত্রে নিজেরে রাঙাও নানান ছন্দে ;
দাবদগ্ধের পরবর্তী ক্ষণে ধরা দাও বর্ষারুপে মৃত্তিকার সোঁদা গন্ধে ।
রিমঝিম বরষে চারিপাশ করো সিক্ত;
তব অকৃত্রিম পরশে বৃক্ষাদির পল্লব সমূহ হয় সবুজায়িত।
আমিও তোমা সহিত বর্ষণ মুখর দিবার সাক্ষী রই অবনী মাঝে ;
মনে মনে ভাবি বসিয়া,ইহা হেতুই তুমি ঋতুরাণী কার্যে ।
বিদায় বরষায় ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘে
পেঁজা তুলোর ন্যায় উঁকি দেয় নিসর্গ শরত ;
শরতের সাদা মেঘে ভাসিয়া চলে মনে,
পাল তোলা নৌকা অবিরত।
কাশফুলে,কমলে আকাশ বাতাস মুখরিত হইয়া জানান দেয় শরতবাণী ;
সেই বাণী আগমণী গানে অনুরণিত হইয়া
বাতাসে সুগন্ধি ছড়ায় দেবী পক্ষকে মানি ।
আমিও শরতের চাদরখানি লেপিয়া মিশিয়া যাই হেমন্তের স্বরলিপিতে ;
হালকা শীতল আমেজে আড়মোড়া ভাঙি সুখের দিন লিপিতে।
এভাবেই চলিয়া যায় আরও দুই মাস –
হেমন্তের সহিত ক্রমশ অগ্রসর হইয়া পৌঁছাই হিমেল নাগপাশ।
তুহিন পবনে প্রকৃতি হয় নিদারুণ জড়সড় ;
ডালিয়া,চন্দ্রমল্লিকা,গাঁদায় সাজিয়া ধরণী লয় আড়ম্বর বড়সড় ।
কোথাও তুষার বর্ষণে পাহাড় শৃঙ্গ হইতেছে দুগ্ধ শ্বেতা ,
কোথাও বা পাতাঝরা দিনের সাক্ষী রুপেনু হইয়াছি প্রকৃতির সহিত পল্লব হীনা ।
ফাগুন-চৈত্রের উদাসী পবনে দখিন দুয়ার যায় গো খুলিয়া,
নব পত্রিকা শোভা পায় ডালে ডালে বসন্তে দুলিয়া।
পলাশ,শিমুলে আমিও মাতি দিগন্ত জুড়িয়া ;
কোকিলার কলতানে সুরেতে সাধি প্রাণের জগত রচিয়া।
এমন করিয়াই কালের চক্রে যতনে ভরিয়া কহি –
জীবন যুদ্ধে প্রকৃতি তব বৈচিত্র্য সুধায় আমা সহিত আবেশে বিভোর রহি।।