কবিতায় পূজা নন্দী

বৃদ্ধাশ্রম
দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধরিলাম তারে
যখন খোকা ছিল খুব ছোট
আদর করতাম তারে আঁচল দিয়ে
যতন করে
যতনে করিলাম মানুষ
তারে আঘাত না করে
সোনা আমার বড় হলে
দেখবে আমায় যতনে
সোনা যখন একটু বড়
মা বলে ডাকতে শেখে
তার সেই প্রথম ডাকে
যেন প্রাণটা আমার জোরালো শেষে স্বপ্ন দেখি
একদিন খোকা অনেক বড় হবে
খোকা আমার দু নয়নের জল
আমার বুকের রক্তের বিন্দু
সে যে আমার প্রাণের খোকা
খোকা যখন বড় হল
ঘরে এলো এক সুন্দর লক্ষ্মী
মনে হলো
দুই সন্তানকে নিয়ে থাকবো যতনে
তা কি আর ভাগ্যে সয়
রূপে ছিল লক্ষী গুনে ছিল সরস্বতী কিন্তু মা বলে ডাকতো না কোনদিনই
বৌমা বলে ওই বুড়ি থাকলে পরে বাড়ি যে হবে অপয়া
গায়ের দাগ গুলো
এখনো ক্ষতবিক্ষত পরিণত চেহারায়
যন্ত্রণায় সই চুপ করে খোকার আড়ালে একসময় যে ছিল আমার খুব প্রিয় আজ সে ভরিয়ে দিল মন শরীর জুড়ে শত চিহ্নের আঘাতে
তবু জানতে দিইনি তারে
এটাই আমার প্রাপ্য ছিল বৃদ্ধ কালে খোকা হলো আমার পর
ভাঙলো স্বপ্নের ঘর
তাই আমার ঠাঁই অবশেষে
বৃদ্ধাশ্রমে।