গুচ্ছকবিতায় প্রভাত মণ্ডল

মোহন বাঁশি

আজি আঁধার রাতে কালার বাঁশি
মোহন সুরে বাজে
ও সে বাঁশির সুরে রাধার আঁখি
অবনত রাঙা লাজে
হেথা হোথা চাহে বারেক ফিরিয়া
দেখিবারে চায় শ্যাম
না দেখিতে পাইয়া বক্ষ ভেদিয়া
উঠিতেছে একি নাম ।
নয়ন বাহিয়া পড়িতেছে ঝড়ে
রাধার বক্ষ ব্যথা
বুঝিবে কি শ্যাম কহিবে কি জানি
রাধার সনে কথা ।
আজি রাধার অশ্রু গগন ভেদিয়া
পড়িছে বিশ্বভূমে
অবিরত বারি ঝরিছে দেখো
মোহন বাঁশির নামে ।

জীবন নদীর বন্দরে

মাগো !
আঁধার আলোয় গর্ভেতে তোর, ছিলেম বড়ই সুখে
দিবা নিশি মা গো তোমার, বুকে মাথা রেখে ।
ধরায় যখন আলোর ধারা
সেই আলোতে পাগল পারা
তোর গর্ভ হতে পৃথ্বীলোকে
জনম নিয়ে দেখি,
সর্বনাশা বিশ্বভুবন মানব জনম একি ।
জীবন বীণার ছিন্ন তারে, সুরের আশা জাগে
অস্তরাগের রামধনুটাও, রবির কিরণ মাগে ।
স্বপন দেখি আঁধার আলোয়
সত্য আঁকড়ে থাকি কালোয়
ব্যাথার বাঁশি বাঁধ ভেঙেছে
ওগো ভুবন মাঝির অন্তরে
বেলে শেষে নাও ভিড়েছে, আজ জীবন নদীর বন্দরে ।

ক্ষমা করো

আমি যতন করিয়া রাখিয়া তোমারে
যতনে সাজায়ে মন
লিখেছিনু বড় আদর সোহাগে
করিয়া অতি সযতনে ।
তুমি বক্ষ ভেদিয়া কঠিন কপাট
ছিন্ন করিলে বেশ
মোর সাজানো বাগানে নিঃশেষে তুমি
দিয়ে গেলে অতি ক্লেশ ।
তা বলে কি আমি ভুলিব তোমারে
ভুলিবো তোমার নাম !
ভুলিবো কি কভু তোমার আলোয়
ভুলিবো তোমার ধাম !
ক্ষমা করো প্রভু পারিনা ভুলিতে
তব প্রেম নাম মালা
যদি তুমি দাও এ বক্ষ মাঝারে
দাহন দগ্ধ জ্বালা ।

বঞ্চিত

মেঘলা আকাশ দারুণ বিকেল
গাঁ’এর মেঠো পথ
এই পথেই তো বহিয়া চলে
সভ্যতারই রথ ।
রথের রশি টানিয়া চলে
গাঁ’এর যত চাষি,
সেই রথে বসি বাজায়ে চলে
শহুরে বাবু বাঁশি ।
বিজয় বাঁশির রব উঠিয়াছে
যত বার যত দেশে,
গাঁ’এর মজুর শ্রমিক সবাই
বঞ্চিত নিঃশেষে ।
সভ্যতারই মুকুট দেখো
শহুরে বাবুর শিরে,
শ্রমিক মজুর যেমনি ছিল
তেমনি রইলো পড়ে ।
কালের রথচক্রটাকে
সজীব রাখে যারা,
যুগ হতে যুগ তারাই তো রয়
ভিটে মাটি ঘর ছাড়া ।

আমি দিব্যা বলছি

মোর,
রইল পড়ে খেলার পুতুল
রইল পড়ে সাথি,
রইল পড়ে আপন স্বজন
রইল দিবা রাতি ।
হারিয়ে গেলো নিঃশ্বাস মোর
চিরদিনের তরে,
বেল যুঁথিকা ফুলের মালায়
সব সাজালো যতন করে ।
শ্মশান ঘাটে বিদায় দিল
প্রতিবাদী দেশ,
প্রতিবাদের ভাষাও আজ
রুক্ষ-করুণ বেশ ।
দুদিন পরে ভুলবে সবাই
ভুলবে আমার নাম,
প্রতিবাদের ভাষাই সেদিন
হবে রাজনীতির ধাম ।
কি হবে আর প্রতিবাদে
বিচার পাবো কই,
মা যে যত্ম করে তুলে রেখেছে
কলম খাতা বই ।
লিখবো না আর সেই খাতাতে
কখনো মোর নাম,
হাত বাড়িয়ে ডাকছি ওগো
শোনো দিব্যা আমার নাম ।
বুদ্ধিজীবী রাজনীতিবিদ
মনটি দিয়ে শোনো,
সবার ঊর্ধে ন্যায় নীতি আর
মনবতা জেনো ।
ওগো !
আমার নিথর দেহ নিয়ে
কোরো না রাজনীতি,
হয়তো তোমার ঘরের কণ্যাটিও
বইবে দিব্যা সম স্মৃতি ।
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!