T3 || স্তুতি || শারদ বিশেষ সংখ্যায় পীযূষ কান্তি সরকার

গৃহপ্রবেশ
নতুন শতাব্দী আসার পর গৃহপ্রবেশ বলতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নতুন ফ্ল্যাটে প্রবেশ বোঝায় — মধুছন্দার ক্ষেত্রেও তাই। প্রায় সাড়ে তিন কাঠা জমির ওপর তাঁর শ্বশুরমশাই যে বিরাট দোতলা বাড়ি হাঁকিয়েছিলেন, শরিকি সমস্যার কারণে সেটিকে তুলে দেওয়া হয়েছিল প্রমোটারের হাতে। তারপর প্রমোটার নির্ধারিত পাঁচশো স্কোয়ার ফিটের ফ্ল্যাটে শ’দুয়েক স্কোয়ার ফিটের সংযোজন ঘটিয়ে দুই কামরার ফ্ল্যাটটি পেয়েছেন তিনি।
ছেলে- ছেলের বউ আর নাতিকে নিয়ে নতুন ফ্ল্যাটে প্রবেশের সূত্রেই পূজা-অর্চনা আর খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা। নয় নয় করে শ’খানেক লোকের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেছে তাঁর ছেলে শুভময়। মধুছন্দার তিয়াত্তর বছর বয়সে সুগার-প্রেসার তো আছেই সঙ্গে হজম সমস্যা আর সোডিয়াম পটাশিয়ামের ঘাটতিও রয়েছে। তাই মাঝে মাঝে শুভময় ঝামেলায় পড়ে যায়।
শুভময়ের বাবা সুহাসের অকাল প্রয়াণ মধুছন্দার জীবনে ভয়ঙ্কর ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল সেই যন্ত্রণার দিনগুলোকে পার হয়ে যে আবার নতুনভাবে সংসার রচনা করতে পেরেছেন তাতেই তাঁর পরিতৃপ্তি। কখনো কখনো মনে হত নিজেকে শেষ করে দিই আবার কখনো মনে হত কোথাও হারিয়ে যাই। সব সংশয়কে অতিক্রম করে শেষপর্যন্ত সংসার গঠনের কারিগর রূপেই হল তাঁর নয়া আত্মপ্রকাশ।