T3 || ১লা বৈশাখ || বিশেষ সংখ্যায় পূর্বা কুমার

মাদার্স ডে

ঈশার আজান সেই কখন শেষ হয়েছে। বিলকিসের কিছুতেই ঘুম আসছে না। একে উটকো জায়গা তার উপর পাশে জিনিয়া,সফিকুল কেউ নেই। একা একা সে একদম ঘুমোতে পারে না। কেমন যেন গা ছমছম করে। রাতে একা থাকলেই দুনিয়ার ভূতের গল্পগুলো মনে আসে। বুড়ো ধাড়ির মুখে এসব কথা শুনলে লোকে হয়ত হাসবে কিন্তু তার মনে এলে সে কি করবে?
ঈদে ননদের বাড়ি আসার হুজুগটা অবশ্য ওই তুলেছিল। সফিকুল ঈদের পরদিনই অফিসের কাজে পুনে চলে গেছে। সাতদিন পর আসবে। এদিকে সরকার গরমের জন্য স্কুলে ছুটি ঘোষণা করেছে। কি মজা! স্কুলও বন্ধ। অতএব দুয়ে দুয়ে চার। জিনিয়া বায়না ধরল সে সাতদিন খালার বাড়িতে থাকবে। আব্বা ফিরলে তবে বাড়ি যাবে। জিনিয়ার বায়নায় ধুনো দিল ওর খালা আর রিঙ্কিদিদি। ব্যস্!
রাত কটা কে জানে! তবে বাইরে ছমছমে নিশুতি। পাশের ঘরে আছে জিনিয়া আর রিঙ্কি। একজন ক্লাস ওয়ান,একজন টু। দুটো পুচকি মেয়ে, তাদের নাকি আবার প্রাইভেট টক! আলাদা ঘর চাই। দুটোই মহাপাকা। আবার দরজায় খিল এঁটেছে! মাথার দিকের জানালাটা ভেজানো। ওদের শুয়ে পড়ার মিনিট দশেক পর বিলকিস জানলার পাল্লা ফাঁক করে দেখেছে দুজনেই অঘোরে ঘুমোচ্ছে। এরমধ্যেই ঘুম? যাহ্! প্রাইভেট টক? ছেলেমানুষ আর কাকে বলে! বিলকিস আপনমনেই হেসে ওঠে। যা বোঝা যাচ্ছে, আজ আর ঘুম হবে না। ইউটিউবে গান শুনলে সময়টা কেটে যাবে। বিলকিস বালিশের পাশ থেকে মোবাইলটা নিয়ে অন করে। মোটে রাত দেড়টা!
ফোনটা অন করতেই টিং টিং করে প্রচুর মেসেজ ঢুকতে শুরু করে। এত রাতে এত মেসেজ! প্রথমে হোয়্যাটস অ্যাপ, পরে মেসেঞ্জার খোলে বিলকিস। ফোন উপচে পড়ছে। ফেসবুক ভেসে যাচ্ছে। হ্যাপি মাদার্স ডে, হ্যাপি মাদার্স ডে, হ্যাপি মাদার্স ডে… … ওহ্ হো, রাত বারোটা তো পার হয়ে গেছে। আজ মে মাসের আট তারিখ। আজ নাকি মাদার্স ডে। এদের কি ঘুমনিদ্রা নেই? রাত জেগে বসে আছে উইশ করবে বলে! বলিহারি সব হুজুগ। বিলকিস এসব একেবারেই পছন্দ করে না। কাউকে কোনদিন উইশ জানায় না। বড় একঘেয়ে লাগে। আজ জন্মদিবস, কাল বিবাহদিবস, পরশু চুমু দিবস, তরশু হাসি দিবস, চরশু কান্না দিবস,নরশু সর্দি দিবস …… সব কাজকর্ম ছেড়ে দিয়ে শুধু সারাদিন ‘দিবস’ জানিয়ে যেতে হবে। তাছাড়া, সত্যি বলতে কি, এত ধৈর্য আর এত উৎসাহ বিলকিসের নেই।
বিলকিস ইউটিউব খুলে স্ক্রোল করতে থাকে। মান্না? কিশোর? জগজিত? কি শোনা যায়… কি শোনা যায়… হঠাৎ হুঠহুঠ হুঠহুঠ একটা আওয়াজ শুনতে পায়। দরজা বা জানালা ঠেলার শব্দ। বাইরের বারান্দা থেকে শব্দটা আসছে না! ফোন বন্ধ করে বিলকিস কান খাড়া করে। চোর ঢুকল? সিঁড়ির কোলাপসিব্ল্ গেটে তো তালা দেওয়া। ছাদের দরজাও বন্ধ। বারান্দাও গ্রিল দিয়ে ঘেরা। তাহলে? আর ও তো জেগেই আছে। পিছনের তালগাছ থেকে একটা পেঁচা কর্কশস্বরে ডেকে উঠল। বিলকিসের গায়ের লোমগুলো শিরশির করে উঠল। না জেনে এতরাতে চিৎকার করা ঠিক হবে না। বাইরে বেরিয়ে কি একবার দেখবে? একা আছে, দরজার খিল খোলাটাই কি ঠিক হবে? কিন্তু পাশের ঘরে যে দুটো বাচ্চা একা রয়েছে। ওদের কোন বিপদ হল না তো? কথাটা মনে হতেই বিলকিসের বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল। ওদিকে শব্দটা একনাগাড়ে হয়েই চলেছে। নাঃ, যা হয় হোক, তাকে বেরোতেই হবে। মনের জোরে সাহস সঞ্চয় করে খুব আস্তে আস্তে দরজা খুলল। একঝলক ঠান্ডা হাওয়া ওর মুখে চোখে ঝাপটা দিল। বুকের ঢিপঢিপ শব্দটা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে। দরজা খুলে শুধু মাথাটা বের করে বারান্দার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত দেখল। বারান্দায় নাইট ল্যাম্প জ্বলছে। কই,কেউ তো কোত্থাও নেই। সিঁড়ির মুখে শুধু জিনিয়ার প্লাস্টিকের পুতুলটা উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছে। কিন্তু শব্দটা তো এখনও হচ্ছে। বিলকিস এবার নিঃশব্দে বেরিয়ে এল। পা টিপে টিপে শব্দের দিকে এগোল। ও মা! এ কি কান্ড! এ যে একটা বেড়াল! ধবধবে সাদা, তুলোর বলের মত। জিনিয়াদের জানালাটা পা দিয়ে, হাত দিয়ে,মাথা দিয়ে খোলার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। অদ্ভুত তো! হ্যাট্ হ্যাট্ যাঃ যাঃ! বিলকিস হাত তুলে বিড়ালটাকে তাড়ায়। বিড়ালটা লাফ দিয়ে নেমে দৌড়ে কোলাপসিবল গেটের ফাঁক দিয়ে পালিয়ে যায়। বিলকিস জানালাটা খুলে দেখে মেয়ে দুটো নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে। একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়ে। পাল্লাদুটো চেপে বন্ধ করে দিয়ে নিজের ঘরে ফিরে আসে।
উফফ্, কি ভয়ই না পেয়েছিল! বেচারির মনে হয় খুব খিদে পেয়েছে। ইঁদুরের খোঁজে ঘুরছে। বাইরে খইফোটা জোৎস্না। বিলকিস জানালার কাছে এসে দাঁড়ায়। পিছনে ধূ ধূ করছে ধানক্ষেত। পৃথিবীটা কেমন মায়াময় লাগছে। কিন্তু এদিকে আবার হুঠহুঠ শব্দ। বিলকিস বেরিয়ে এসে দেখে বিড়ালটা আবার আগের মতই জানালা ঠেলছে। পাল্লাটা একটু ফাঁক করেও ফেলেছে। মেয়েদুটোকে আঁচড়ে কামড়ে দেবে না তো! এবার জোরসে তাড়া দেয়। বিড়ালটা নেমে সিঁড়িতে বসে। পালাবার কোন লক্ষণ নেই। জানালার দিকে তাকিয়ে অনবরত মিঁউ মিঁউ করে যায়। বিলকিস এবার ঘর থেকে খবরের কাগজটা নিয়ে আসে। ওটাকে লাঠির মত পাকিয়ে ভয় দেখায়। এবার বিড়ালটা পালিয়ে যায়। বিলকিস সিঁড়ির মুখে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। নাঃ, এবার পালিয়েছে।
মিনিট দশেক পর আবার আওয়াজ। এ তো ভারি জ্বালাতনে ফেলেছে! সারারাত একটা বিড়ালের সঙ্গে লুকোচুরি করে কাটবে নাকি? আর মেয়েদুটোও হয়েছে তেমনি বায়নাদার। আবার ভিতর থেকে খিল এঁটেছে। বেহুঁশ হয়ে ঘুমোচ্ছে, ডাকলেও তো ওঠানো যাবে না। ওদের জন্যই তো বিড়ালটাকে পাহারা দিতে হচ্ছে। মাদার্স ডে’র প্রথম প্রহর বেশ ভালভাবেই উৎযাপন করছে বিলকিস। রাত জেগে ছানাদের আগলাচ্ছে। অন্ততঃ এই মুহূর্তে বিলকিসের তাই মনে হচ্ছে। এবারে বিড়ালটাকে তাড়িয়ে একেবারে একতলায় পাঠিয়ে দেয়। তারপর একটা তোয়ালে নিয়ে গিয়ে জানালার গ্রিলে বেঁধে দেয়। ব্যাটা এবার জব্দ হবে। আর জানালায় উঠতে পারবে না।
ঘরে এসে ঢকঢক করে অনেকটা জল খায় বিলকিস। তারপর বিছানায় টান হয়ে শুয়ে পড়ে। চোখের পাতা সবে একটু লেগেছে,ব্যস,আবার … এবার নখ দিয়ে আঁচড়ানোর শব্দ। রাতদুপুরে কি উৎপাত! মেয়েদু্টোকে কাল দেখাচ্ছি মজা! কিন্তু বিড়ালটাই বা কেন এমন আচরণ করছে? ঘরে তো শুধু দুটো বাচ্চা শুয়ে আছে। ঐ ঘরেই বা ওর এত আগ্রহ কেন! ইঁদুর কি আর কোথাও নেই? ধক্ করে পুরোনো ভয়টা ফিরে এল বিলকিসের। কোন অশরীরী নয় তো? অনেক গল্পে পড়েছে, ওরা নাকি বিড়ালের রূপ ধরেই বেশি আসে। কি ভয়ানক! গা ছমছম করে ওঠে। কিন্তু সে তো মা, মেয়েদুটোকে তো এর হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। মেয়ের বিপদে মা তো আর ভয়ে ঘরে বসে থাকতে পারে না। মনকে শক্ত ক’রে উঠে বসে বিলকিস। হাতের কাছে অন্য কিছু না পেয়ে টেবিল থেকে চুল আঁচড়ানোর চিরুনিটা নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। বিড়ালটা এবার জানালা নয়, বন্ধ দরজায় আঁচড়াচ্ছে। যা আছে কপালে, হবে। বিলকিস ধাঁই করে চিরুনিটা ছুঁড়ে দেয়। বিড়ালটার পেটে লাগে। একবার জোরসে ক্যাঁও করে ওঠে কিন্তু পালায় না। দরজার সামনে লেজ গুটিয়ে চুপ করে বসে থাকে। বিলকিসের দিকে তাকিয়ে মিঁউ মিঁউ করতে থাকে। আজব ব্যাপার। মার খেয়েও এ নড়ে না! তবে ভূত টূত নয় মনে হয়। তাহলে মার খাবার পর অন্যরকম কিছু ঘটত। গল্পের বইয়ে যেমন পড়েছে সেরকম কিছু একটা।
ঘন্টা দুই এরকম চোরপুলিশ খেলার পর ক্লান্ত বিলকিস জিনিয়াদের ঘরের দরজার সামনে দেওয়ালে ঠেস দিয়ে বসে পড়ে। বিড়াল আর বিলকিস এখন মুখোমুখি বসে। বিড়ালটাকেও খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছে। চাঁদের আলো প্রায় মরে এসেছে, আর একটু পরেই ফজরের আজান শুরু হবে। ঠান্ডা ঠান্ডা হাওয়া দিচ্ছে। হাওয়ায় নারকেল পাতার সরসর শব্দ হচ্ছে। একটা রাতচরা পাখি ডাকতে ডাকতে কোথায় যেন চলে গেল। বিড়ালটা বিলকিসের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে বসে আছে। বিলকিসও বিড়ালটার চোখে চোখ রাখে। পশুদের চোখে কি কোন ভাষা থাকে? কে জানে! তবে বিড়ালটার চোখ থেকে যেন অসহায় আর্তি ঝরে পড়ছে। কি করুণ দৃষ্টি! কি যেন বলতে চাইছে। এখন বিড়ালটাকে দেখে বড্ড মায়া লাগছে বিলকিসের।
বিলকিসের চোখের সামনে একটা বিড়াল দুটো হয়ে গেল। তার পাশে আর একটা,ওপাশে আর একটা, ঐ যে আরও তিনটে। এ কি! এত বিড়াল কোথা থেকে এল? কখন এল? সিঁড়ি দিয়ে? বারান্দার গ্রিল দিয়ে? বিলকিসের ঘরের জানালা দিয়ে? ওমা! ওর ডানদিকে ,বাঁদিকে কত বিড়াল! পিলপিল করছে। বিলকিস আবিষ্কার করে যে সে একটা বিরাট মাঠের মাঝখানে বসে আছে। কি কান্ড! ঘর, বারান্দা সব নিমেষে উধাও হয়ে গেল? ম্যাজিক নাকি? চারদিক শুনশান, জনপ্রাণী নেই। চারদিকে শুধু হাজার হাজার বিড়াল। সবাই পাথর চোখে তাকিয়ে আছে বিলকিসের মুখের দিকে। কি অসহ্য দৃষ্টি। বিলকিস তাকিয়ে থাকতে পারছে না। আতঙ্কে শরীরটা বরফের মত ঠান্ডা হয়ে আসছে। শিরদাঁড়া দিয়ে হিমশীতল স্রোত বইছে। নড়বার চড়বার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। এতগুলো বেড়ালের সামনে সে অসহায়ের মত বসে থাকে। কোথাও কোন শব্দ নেই। আচমকা ‘মা আ আ আ আ’ ব’লে একটা তীব্র চিৎকার। চমকে ওঠে সে। স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মত বিলকিস ব’লে ওঠে, জিনিয়া! ও হো! বারান্দায় বসে সে ঘুমিয়ে পড়েছিল!
সকাল হয়ে গেছে। নরম রোদ এসে বারান্দায় লুটোচ্ছে। জিনিয়া ঘর থেকে ‘মা’ ‘মা’ বলে ডাকছে। ধড়মড় করে উঠে দাঁড়ায় বিলকিস। আশ্চর্য! বিড়ালটা এখনও দরজার সামনে বসে আছে! সেই কাতর চাউনি আর সেই মিঁউ মিঁউ। বিলকিস জানালা থেকে তোয়ালে সরিয়ে দেখে জিনিয়া বিছানায় বসে মা মা ক’রে চেঁচাচ্ছে আর তার রিঙ্কিদিদি এখনও ঘুমে অচৈতন্য।
বিলকিস জিনিয়াকে বলে,” আগে দরজার খিলটা খোল।“
“আমি নাগাল পাব না মা।“
“তবে রিঙ্কিদিদিকে ডাক।“ বিলকিস নিজের মনেই গজগজ করে, “মেয়ের সঙ্গে খোঁজ নেই,পাকামোর ঠেলায় অস্থির। ওনারা আলাদা শোবেন! আবার প্রাইভেট টক! অথচ শুয়েই একেবারে কাদা। আর এই বিড়ালটাও তেমনই নাছোড়বান্দা। সারারাত জ্বালাতন করেছে।“
জিনিয়ার ঠেলাঠেলিতে রিঙ্কি উঠে পড়ে। দুজনে দরজার কাছে চেয়ার টেনে আনে। তারপর রিঙ্কি চেয়ারে উঠে খিল খোলে। বিড়ালটা কি বুঝল কে জানে একেবারে দরজার গোড়ায় এসে বসল। দরজার একটা পাল্লা খোলা হয়েছে কি হয়নি, রিঙ্কির পায়ের উপর দিয়ে বিড়ালটা বিদ্যুৎবেগে ঘরে ঢুকে পড়ল। একেবারে সোজা খাটের তলায়। বিলিকিসের মনেও অসম্ভব কৌতূহল। সারারাত বিড়ালটার কি অদম্য প্রচেষ্টা! এই ঘরেই ঢুকবে ও। এমনকি মার খেয়েও দমেনি। কি এমন ব্যাপার! জিনিয়া আর রিঙ্কি ঘুম থেকে উঠে ভ্যাবাচাকা খেয়ে গেছে। বিলকিস খাটের তলায় উঁকি দেয়। অন্ধকার অন্ধকার। ভাল দেখা যাচ্ছে না। পূর্বদিকের জানালাগুলো সব খুলে দেয়। একচিলতে রোদ এসে পড়ে। সকালের আলোয় বিলকিস এমন দৃশ্য দেখবে স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি।
একটা বাতিল পিচবোর্ডের জুতোর বাক্সের ভিতর তিনটে সদ্যজাত ছানা। ক্ষুদে ক্ষুদে, এখনও চোখ ফোটেনি।হামলে পড়ে মায়ের দুধ খাচ্ছে। খাওয়া দেখেই বোঝা যাচ্ছে কি ভয়ানক ক্ষিদে পেয়েছে ওই দুধের শিশু তিনটের। আহা! ওদের যে এখনও কাঁদার শক্তিও নেই! না খেয়ে আছে কতক্ষণ! এইজন্য বিড়ালটার সারারাত এত ছটফটানি,এত আকুতি! ঘরে ঢোকবার কত চেষ্টাই যে করেছে! বিড়ালটা বিলকিসের কাছে সারারাত পাগলের মত আবেদন,নিবেদন, অনুরোধ, উপরোধ সবকিছু করে গেছে। সন্তানকে বাঁচানোর জন্য একজন মায়ের করুণ আর্তি। বাচ্চাগুলো দুধ খাচ্ছে আর মা ডুব ডুব স্নেহে ওদের গা চেটে দিচ্ছে। দৃশ্যটায় আকন্ঠ ডুবে যেতে থাকে বিলকিস।
নিজের অজান্তেই মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়,”হ্যাপি মাদার্স ডে।“

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!