সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ২৬)

স্ট্যাটাস হইতে সাবধান
— এই যে গো, এদিকে। এদিকে এসো গো সোনা দিভাই —
হলের লোকজন তাকাচ্ছে ফুলটুসির দিকে। কে একজন বলে উঠলো — আস্তে কথা বলুন, অনুষ্ঠান চলছে।
অন্য আরেকজন বলে উঠলো — আসলে গরমে এসির ঠান্ডা হাওয়া খেতে আসে এগুলো।
ফুলটুসির কানের গোড়া ঝাঁঝাঁ করতে থাকে। ছেলেটা জীবনানন্দ সভাঘরের বাঁদিকের একদম শেষে রাখা চেয়ার দুটোর একটায় বসে আছে আর পাশেরটা ওর কাঁধের ঝোলাটা দিয়ে জায়গা রেখেছে। ইঙ্গিতে ফুলটুসিকে পাশের খালি সিটটাতে এসে বসতে বলছে ছেলেটা। ফুলটুসি ছেলেটার মতলব বুঝেও সেদিকেই এগিয়ে যায়। গিয়ে বসে কোণের সিটে। বসে শরীরটাকে এলিয়ে দেয় ছেলেটির দিকে। ছেলেটিও নড়েচড়ে বসে।
ফুলটুসির মন চিড়বিড় করছে। এতদিন ধরে যাকে অবজ্ঞা করে এসেছে সেই হোৎকামুখোটার কীর্তিকলাপ আজ ওর মনে ক্ষোভের আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ও জীবনেও ভাবতে পারেনি যে ওই মানুষটাও এরকম রোমান্টিকভাবে তাকাতে পারে। এভাবে অচেনা অজানা একজন মহিলার সাথে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে পারে। বদমাইশটা এতোদিনের বিবাহিত জীবনের মধ্যে একদিনও ওর থুতনিতে পর্যন্ত হাত দিয়ে চোখের দিকে অপলক তাকিয়ে থেকে বলে নি — ওগো তুমি কী সুন্দর!
— তোমার হাতটা কী নরম গো সোনা দিদি।
ছেলেটা ওর হাতের পাঞ্জাটা নিজের হাতের ভেতর নিয়ে চাপ দিচ্ছে। ফুলটুসির শরীরটা গুলিয়ে উঠলো। ছেলেটার দিকে কড়াচোখে চাইলো ফুলটুসি। হাতটাকে সরিয়ে নিয়ে গম্ভীর চাপা গলায় হিসহিসিয়ে উঠলো, — কি হচ্ছেটা কী? আমি এসব একদম পছন্দ করি না। ফারদার আমাকে টাচ করবে না।
ছেলেটাও হিসহিসিয়ে উঠলো — থাক আর সতীপনা দেখাতে হবে না। নন্দন চত্বরে সবাই তোমাকে চেনে। সবাই জানে তুমি কী ধরণের জিনিস।
ফুলটুসি সিট ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। এগিয়ে গেলো দরজার দিকে। দরজাটার পাল্লায় হাত রাখতেই সঞ্চালক ঘোষণা করলেন — এবার আপনাদের সামনে স্বরচিত কবিতাপাঠ করে শোনাবেন বর্ত্তমান কালের নবীন কবিদের মধ্যে অন্যতম সেরা কবি ফুলটুসি তলাপাত্র।
ক্রমশ