সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ২০)

সুন্দরী মাকড়সা

জানালার বাইরে ছাইরঙা বেড়ালের মাটি আঁচড়ানো, আর পেছনে স্নান সেরে আসা স্নেহার শরীর থেকে ভেসে আসা সাবানের সুগন্ধ আর ওর মুঠোর মধ্যে সেই হুমকি দেওয়া চিরকুট। ঋষি প্রথমেই হাতের দলা পাকানো চিরকুট্টাকে আলগোছে জানালা ঘেষে ফেলে দিয়ে স্নেহার দিকে ফিরে তাকালো। পাজামা আর ফুলশার্টে স্নেহাকে দেখতে একেবারেই অন্যরকম দেখাচ্ছে। শরীর ভেজালেও চুল ভেজায়নি স্নেহা। চুলগুলোকে চুড়োখোঁপা করে শাষণ করা।
— কী হলো! অমন হাঁ করে কী দেখছো শুনি?
— বিশ্বাস করো তোমাকে না একদম অন্যরকম দেখাচ্ছে।
স্নেহা ঋষির কাছাকাছি এসে দাঁড়ালো।
—- কেমন অন্যরকমের ঋষি! আমাকেই হাঁ করে দেখবে, না কি ভাত বসাবে? রাতে কিছু একটু পেটে দিতে হবে তো।
ঋষি তাড়াহুড়ো করে বাজার করে আনা সবজি আর চালের প্যাকেটগুলো নিয়ে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ালো। বেড়ালটার কথা বেমালুম ভুলেই গেলো ঋষি।
চাকাচাকা করে কাটা বেগুন ভাজা, আলু ভাজা, আলুডিমসেদ্ধ মাখা দিয়ে দুজনে বেশ আয়েস করে রাতের খাওয়া শেষ করে ঘরে এসে খাটের ওপর বসলো।
— নাও, এবারে বলো দেখি তোমার সেই ইয়াব্বড় খুনী মাকড়সা, না কি যেন বলছিলে তখন?
ঋষির হঠাৎ করে বেড়ালটার কথা মনে পড়ে গেলো। যাঃ, কথায় কথায় তো…
ঋষি ধীরেধীরে খাট থেকে উঠে জানালাটার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। স্বাভাবিকভাবেই বেড়ালটা নেই। আর ঠিক যেখানে বেড়ালটা ঝোপের মধ্যে মাটির বুকটা আঁচড়ে আঁচড়ে তছনছ করে দিচ্ছিলো, সেখানটায় একটা হাতের পাঞ্জার কঙ্কাল জমির ওপরে দাঁড়িয়ে আছে।
ঋষির শরীরটা থরথর করে কেঁপে উঠলো। মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠলো ওর। ঋষি জানালার লোহার গ্রীলটাকে দুহাত দিয়ে চেপে ধরলো।
এর কোনোকিছুই স্নেহার নজর এড়ায় নি। স্নেহা ধীরে সুস্থে গিয়ে ঋষির পাশে দাঁড়ালো।
— Are you ok ঋষি?
স্নেহা ঋষির কাঁধে হাত রাখে। ওর ঘাড়ের কাছের চুলে আঙুলগুলোকে চিরুনির মতো চালাতে থাকে।
— হ্যাঁ, আমি একদম ঠিক আছি স্নেহা।
— কী হয়েছিলো তোমার? কি দেখে ওরকমটা হয়ে গেছিলে?
ঋষি হাত দিয়ে জানালার বাইরে সেই কঙ্কালসার হাতের পাঞ্জাটার দিকে দেখায়।
— কী ওটা! একটা মানুষের কঙ্কাল বলে মনে হচ্ছে না?
— It’s not such an innocent one স্নেহা, ওটা একটা প্ল্যানড এ্যান্ড অরগানাইজড ক্রাইম। আমি ঠিক এখনো সবটা বুঝি নি, তবে এখানে এমন কিছু একটা ঘটনা ঘটেছে, যেটা কেউ একজন আমায় জানাতে চাইছে আর অন্য কেউ একজন আমায় এখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য সমানে শাসিয়ে যাচ্ছে।
— তাহলে তো ব্যাপারটা বেশ থ্রিলিং। আমাকে পুরো ঘটনাটা খুলে বলো ঋষি।
হঠাৎ করে বাথরুমের দিক থেকে ধপাস করে কারো পড়ে যাওয়ার মতো শব্দে দুজনেই চমকে উঠলো। ঋষি একছুটে বাথরুমের দিকে যেতে গেলে স্নেহা ঋষিকে জড়িয়ে ধরে ধমকে উঠলো।
— অতোটা এক্সাইটেড হচ্ছো কেন তুমি? মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করো ঋষি।

ক্রমশ…

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।