ক্যাফে কাব্যে প্রভঞ্জন ঘোষ

ঢেকুর
মাৎস্যন্যায় দেখেছি
অচ্ছুতমার্গ দেখেছি,
লম্বা দাড়ির ঝালর নিয়ে
কৃপাপ্রার্থী হতে দেখেছি
হস্তিনাপুরের রাজদ্বারে।
যেখানে, ঠ্যাঙাড়ে দেখেছি
ডাকাতের তান্ডব দেখেছি-
রাতের অন্ধকারে।
লালমুখো বেনেদের প্রশ্রয় দিতে দেখেছি
হুগলীর উপকন্ঠে।
জোতদার দেখেছি,
হাড় জিরজিরে শরীর নিয়ে
ফেন চাইতে দেখেছি বাবুদের প্রাঙ্গনে।
লেঠেল দেখেছি,
নরহন্তারক কাপালিক,
চাপকানি,হ্যাঁচড়ানি দেখেছি!
সতীদাহের লেলিহান আগুনে
মানবীর আর্তনাদ,বোবা-অভিশাপ দেখেছি- – – –
সেখানে তো পরছায়া থাকবে,
পিনিয়ালের ধূসর রেখা ধরে
মাৎস্যন্যায়ের বাচ্চারা বুড়বুড়ি তুলবে,
নতুন আঙিকে, ফেস্টুনের বেষ্টনে
ঘরদোর ভাঙচুর করবে,
সেখানে তো দস্যুর বাচ্চারা অদৃশ্য নিয়মে
ডাকাতি হাঁকাবে,
কাপালিক-ঢেকুর তুলে ডাইনি অপবাদে
বাহাকে পোড়াবে
ডাইন অপবাদে পোড়াবে বুধনকে।
যেখানে অনাচার দেখেছি
অনাহার দেখেছি, অত্যাচার দেখেছি,
তাঁবেদার দেখেছি, উমেদার দেখেছি- – –
এই বাংলার ঢেকুর সে তো কম নয়
এই বাংলার বুদ্বুদ সে তো অল্প নয়,
সে সবের পরছায়া বোবামনে সয়ে যাই।