সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ১৬)

সুন্দরী মাকড়সা
ফ্রেসরুমে ঢুকে দরোজা বন্ধ করে হাতে লিকুইড সোপ ঢালতে গিয়েই একটা দম চাপা দুর্গন্ধে যেন পেট গুলিয়ে উঠলো ঋষির। গন্ধটাকে ভীষণ চেনা মনে হলো ওর, গতকাল ঠিক এই গন্ধটাই পেয়েছিলো ঋষি। কোনোক্রমে লিকুইড সোপকে দুহাতের তেলোয় ঘষে বেসিনের কল ছাড়তেই সেই পাতলা কালো পোড়া চামড়াটাকে দেখতে পেলো ঋষি। বেসিনের গায়ে লেপটে আছে। একটা ভয়ার্ত চিৎকার বেরিয়ে এলো ওর গলা থেকে। তারপর অন্ধকার।
চোখ খুলে দেখতে পেলো ওর মুখের ওপর ঝুঁকে আছে স্নেহার মুখ।
ঋষির জ্ঞান ফিরে আসতে যেন অনেকগুলো প্রশ্ন একসাথে বেরিয়ে আসতে চাইছে স্নেহার। কিন্তু একটা প্রশ্নও না করে, ওর ভেজা চুলগুলোর ভেতর ওর আঙুলগুলোকে নিয়ে পরম মমতায় বিলি কেটে দিতে থাকলো স্নেহা। অফিস ক্যান্টিনের একটা লম্বা টেবিলের ওপর শুইয়ে রাখা হয়েছে ঋষিকে। আর ওর টেবিলের পাশেই একটা উঁচু টুলের ওপর বসে রয়েছে স্নেহা।
এবার ধীর গলায় স্নেহা জিজ্ঞাসা করলো – তুমি কি এর আগেও এরকম অজ্ঞান হয়েছো কখনও?
উত্তরে মাথা নাড়ে ঋষি।
— ভাগ্যিস বাথরুমের দরজাটা খোলা ছিলো। অজ্ঞান হওয়ার আগের সময়টার কোনো কিছু মনে আছে তোমার? তুমি একটা বিকট চিৎকার করেছিলে। কোনোকিছু দেখে কি ভয় পেয়েছিলে?
একনাগাড়ে প্রশ্নগুলো করার পর স্নেহা ঋষির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।
কী বলবে ঋষি? বলতে গেলে তো পুরো ঘটনাটাকেই বলতে হয়, কিন্তু এ অবস্থায় বেশী কথা বলতে ভালো লাগছে না ঋষির। ও চোখ বন্ধ করে ধীরেধীরে খুব মৃদু গলায় বললো, — একটা ইয়াব্বড় মাকড়সা। খুনী মাকড়সা। আর কিছু মনে নেই।
ঋষির কথার কোনো মাথামুণ্ডু বুঝতে পারলো না স্নেহা। একটা মাকড়সাকে দেখে ঋষি অজ্ঞান হয়ে যাবে! এছাড়া খুনী মাকড়সা মানে? মাকড়সা আবার খুনী হবে কীভাবে? ঋষির নিশ্চয়ই ঘোর কাটেনি এখনও। আচ্ছন্নতার ঘোরেই ও নিশ্চয়ই ভুল বকছে। স্নেহা সিদ্ধান্ত নিলো আর কোনো প্রশ্ন এই মুহূর্তে স্নেহা করবে না।
— মাথায় এখন একটু আঙুলই বুলিয়ে দাও প্লিজ। কতদিন বাদে যে মায়ের হাতের ছোঁয়া পেলাম! তোমাকে অনেকগুলো ঘটনা বলা হয়ে ওঠেনি স্নেহা, অনেককিছু। কিন্তু এখন, এই মুহূর্তে কোনো কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। অথচ তোমাকে না বললেও হবে না।
— এখন কিচ্ছুটি বলতে হবেনা তোমায়। শুধু একটা কথা বলো, তুমি কি সত্যিই একটা মাকড়সাকে দেখে ভয় পেয়েছিলে?