সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ১৬)

স্ট্যাটাস হইতে সাবধান
সুমন চলে গেছে! ক্ষোভে, দুঃখে, হতাশায় ফুলটুসি একেবারে ভেঙে পড়লো। কী করবে কি এ মূহুর্তে, সেটা ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারছে না ও। এতোটুকু সময়ের জন্য ধৈর্য ধরতে পারলো না সুমন? নিজের দামটাকে কি বাজিয়ে নিতে চাইলো, না কি অন্য কোনো জরুরী কাজে চলে যেতে বাধ্য হয়েই চলে যেতে হয়েছে ওকে? ফুলটুসি এই মূহুর্তে কিছু ভেবে উঠতে পারছে না। শুধু ওর মনের ভেতরে বেজে চলেছে সুমনের ভরাট পুরুষালী গলায় করা আবৃত্তির লাইনগুলো — চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখ তার শ্রাবস্তির কারুকার্য…
আচ্ছা, শ্রাবস্তির কথাটার মানে কী? শ্রাবস্তি নামে কি কোনো বস্তি আছে? এ দিকটাকে তো ভেবে দেখেনি ফুলটুসি। তাহলে ওর মুখকে একটা নোংরা বস্তির সাথে তুলনা করেছিলো ও হতচ্ছাড়া, পাজি – বদমাইশ ছেলেটা? ফুলটুসি কি দেখতে এতোটাই খারাপ, যে ওর মুখকে একটা নোংরা বস্তির সাথে — ছ্যাঃ ছ্যাঃ ছ্যাছ্যা — ফুলটুসির কবে আর বুদ্ধিশুদ্ধি হবে? মানে না বুঝেই কি না, একটা অপরিচিত, অজানা, অচেনা একটা ছেলেকে, শুধুমাত্র তার বাইরের চটক দেখে, না না, এটা আদৌ ঠিক করে নি সে।
একেই বলে দুর্ভাগ্য। সুমনের পাল্লায় পড়ে কি না বরুণকে চূড়ান্তভাবে অপমান করেছে ফুলটুসি। বরুণের করা রিকমেন্টের কোনো উত্তর দেওয়া তো দূরের কথা, ওর করা ফোনটাও ধরেনি, কত অভিমান বুকে নিয়ে চুপ করে থেকেছে বরুন?
নিজের বুদ্ধিমত্তার ওপর একটা বেশ অহংকার ছিলো ফুলটুসির। বিয়ের আগে সেরকমটা না বুঝলেও বিয়ের পর থেকে ফুলটুসি এ কথা আবিষ্কার করেছে যে ওর একটা স্ট্যাটাস আছে। প্রথমত ও দেখতে সুন্দরী, বিয়ের পর ওর শরীরের জেল্লা আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। সেদিনও ফ্রেসিয়াল করতে করতে বিউটিপার্লারের নেপালি মেয়েটা ভাঙা বাঙলায় ওকে বলেছিলো,
— ম্যাডাম, একটা বাত বলবো?
ফুলটুসি মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে সম্মতিসূচকভাবে মাথা নেড়েছিলো।
— আপনি লেকিন আগের থেকে অনেক বেশী ভালো দেখাচ্ছেন। আপনার স্কিন ভি পহেলিসে বহুত ঝকঝকে পলিশড হয়েছে।
হঠাৎ করে ফোনটা ফের বেজে উঠলো, স্ক্রিনে চোখ রাখতেই লাফিয়ে উঠলো ফুলটুসি। বরুণ ফোন করেছে। এখুনি ধরবে না কি একটু সময় বাজতে দিয়ে তারপর…
ফোনটা ধরে সবে উচ্চারণ করেছে হ্যাল্লো —
ঠিক সেসময়েই কলিংবেলের পাখিটা ডেকে উঠলো। মোবাইলটা হাতে নিয়েই দরজার দিকে হাঁটা ধরলো ফুলটুসি। আই হোলে চোখ রেখেই চমকে উঠলো ফুলটুসি —
সুমন, হাতে একগুচ্ছ লাল গোলাপ।
ক্রমশ