সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ৩৯)

বাউলরাজা
তৃতীয় খণ্ড
আমি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছি ধ্রুবদার দিকে। এ মুহূর্তে মনে ক্রোধ জন্ম নিচ্ছে তো পরমুহূর্তে সে ক্রোধ যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। এ মুহূর্তে ঘৃণা জন্ম নিলো তো পরমুহূর্তে সে ঘৃণা গলে জল হয়ে গেলো। আমি অবাক বিস্ময়ে ধ্রুবদার দিকে তাকিয়ে থেকে ওর বলা কথাগুলোকে মনের ভেতর আউড়ে যাচ্ছি — তরে না কইসিলাম এই দ্যাশে আর আসবি না?
হঠাৎ আমার মাথাটা যেন ঘুরে গেলো, চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলো, ঘরঘর করে উঠলো গলা — তুমি বলেছো? তুমি বলার কে ধ্রুবদা, আমার জীবনে তোমার গুরুত্ব কতোটুকু?
— এই শোন, বেশী জ্যাঠামি করবি না কইয়া দিলাম। এই তারাপীঠ, কানাইদার ঠেক, গুরুপদবাবার আশ্রম তরে কেডা চিনাইসে শুনি? আমি লগে কইরা না নিয়া আইলে তুই —
— থাক, আর বলতে হবে না। কেন এনেছিলে সেকথা জানোনা তুমি? নইলে আসাযাওয়ার খরচ খরচা ছাড়াও অন্যান্য খরচপাতি কে চালাতো শুনি?
আমি যে এভাবে সোজা ব্যাটে খেলবো সেটা বোধহয় ধ্রুবদা কল্পনার বাইরে ছিলো। আমার কথাকে খণ্ডন করার আপ্রাণ চেষ্টা করে ধ্রুবদা বলে উঠলেন — তাই বইল্যা তুই এইখানে আইসা ফষ্টিনষ্টি করবি? তুই জানস না যে ওই বাউলনির লগে কানাইদার একটা পবিত্র সম্পর্ক আসে, তুই সেই –
আমি হো হো করে হেসে উঠলাম।
— এ জন্যই তুমি বাউলদিদিকে নোংরা বাউলনি বলো? আর কানাইদা, শেষ পর্যন্ত তুমিও আমাদের ভুল বুঝলে? তোমার হাতে তৈরী চারাগাছ, যে চারাগাছের নাড়িনক্ষত্র তোমারই তৈরী করা তোমার সেই কৃষ্ণামা কে! ছিছিছি কানাইদা, আমার কথা ছেড়ে দিলেও —
— পদীপদাদা, তুমি আমায় ভুল বুজোনা গো, কি বইললে বিশ্বাস কইরবে জানিনা, এই ধুবদাকে আমি চিনিনা। আমি স্বপ্নেও ভাবি নাই গো যে আমার এতোকালের চেনা মানুষটা এরমভাবে পাইলটে গেচে। তিনি তো আসচিলেনই, তারে আমি শুদু তোমার একেনে তাকার খপর দিইচি। তোমার শরীলের সুগন্দ পাইটে দিচি গো পদীপদাদা। বিশ্বাস করো তার চাইতে একচুলও বেশী কিচু বলিনি। আর তোরে বলি রে মা, তুইও আমারে শেষ পয্যন্ত —
কানাইদার দিকে তাকালাম, তার দুচোখ দিয়ে বিষাদের ধারা বয়ে চলেছে। আর তিনি অবিশ্রান্তভাবে কাঁধের দুধারে মাথা ঝাঁকিয়ে চলেছেন।
ক্রমশ