ক্যাফে গুচ্ছ কাব্যে প্রভঞ্জন ঘোষ

১| পঙ্খি

পাখি তুমি যাও
আকাশর কানা ঢুঁড়ে সেঁচে আনো
এক তোলা জল
থুয়ে রাখো চক্ষুর সম্মুখ পানে
ঢলে পড়া ভুট্টার পাতার উপর
স্ফটিকের মতো,
সে গোলকে চাঁদ দেখি
আলো-ছায়া
জমে থাকা যোজনের সদ্ গুরু কথা।
ওলি তুমি ধাও
আবছায়া কমলের ঝিলে
অগনন ঢেউ ভুনে
বয়ে আনো সুরভিত এক নুটি
ঘূ্র্ণন পবনের ঝোঁকা,
সে হাওয়াতে ভিটে দেখি
কদু-লতা
রুখোসুখো,খাপরার চালা-
কুহু তুমি গাও
প্রত্যুষ ঘটিবার আগে
নীড়ে জুড়ে না থাকুক
অশথের অরণ্যে আবরনে
সাধ খুঁজে পাও।

২| আবাহন

কে যেন আসবে
নক্ষত্র সাজিয়ে রাখি’ জমিনে
দূর দ্বীপে চেয়ে রই-
মাঝখানে সমুদ্রের ঢেউ ফেনিল হয়
সমুদ্র দানব উথাল করে বারি।
হাওয়া বয়
এই যেন মনে হয় ঘূর্ণ তাহারি,
রোদরশ্মি ঝরে
মনে হয় তারই যেন সাতরঙা দ্যুতি।
তবু আসে তুষার যুগ ডিঙিয়ে
মৃত সব ম্যামথ্ জেগে ওঠে
মৃত সব শৈবাল খাদ্য মানসে
স্ফীত হয়-
কে যেন আসে
অগাধ জোনাক ছড়িয়ে পূর্ণ করি বসতি
অগাধ নিঃশ্বাস ছড়িয়ে
পূর্ত করি যেমন প্রকৃতি।
ধরিত্রী তুমি থিতু হও
হিমাদ্রি-পবনে ধুয়ে যায় ধুয়ে যাক
সব মাথা হীম হোক
হয় যদি হোক যথা হীম আভরন।

৩| আলোকবর্তিকা

একটা আলো
আলো নয়
আলোর আলপনা
বিশুদ্ধতার সমস্ত গন্ধ ভরিয়ে
অদূর অক্ষাংশে উদ্ভাসিত!
আমি তার নিম্নে নতজানু হই
সে তার প্রতিটি রত্নের পরত সরিয়ে
প্রতিকৃতি আঁকে,
অবয়বে ফুটে ওঠে অনন্ত প্রাণ!
একটা আলো
অসংখ্য বর্ণের দ্যুতি ছড়িয়ে
আলপনায় আকৃত হয়।
আমি তার দুরন্ত প্রতিলিপি
হৃদয়ে তুলে নেওয়ার পূর্বে
সে তিরোহিত হয়
আকাশে ফেলে রেখে চন্দ্র
দিগন্তে প্রণম্য সূর্য।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।