সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ১৪)

সুন্দরী মাকড়সা

ওর ঘুম ভাঙতে এতো বেলা হয়না কোনোদিনও। আড়মোড়া দিয়ে ঋষি যখন বিছানায় উঠে বসলো, ততোক্ষণে নটা বেজে গেছে। ঘড়িটা সোওয়া নটার দিকে দৌড়োচ্ছে। সারাটা শরীর বেশ ঝরঝরে লাগছে ওর। বিছানা থেকে একলাফে নেমে এলো ঋষি। ব্রাশ করতে করতে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একবার গালে হাত বুলিয়ে নিলো ও। নাহ্, আজ দাড়ি না কাটলেও চলবে। গালের ভেতর সবেমাত্র একটু হাল্কা নীল ছোপ লেগেছে। আসল বিষয়টা স্নেহা। গালে দাড়ি দেখলেই চোখ পাকিয়ে এমনিভাবে তাকাবে ওর দিকে তখন ও মনে মনে নিজেকেই গালাগাল দিতে শুরু করে।
আশ্চর্য মেয়ে এই স্নেহা। এই তো মাত্র কদিনের আলাপ, কিন্তু এমনিভাবে ওর সাথে কথা বলে, কারণে অকারণে ওকে শাসন করে, নিজের টিফিন কৌটো খুলে মুখের কাছে এগিয়ে ধরে ঋষি কিচ্ছুটি বলতে পারেনা। শুধু অপলক তাকিয়ে থাকে স্নেহার দিকে। মোটামুটি উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের সুন্দরী, সুশিক্ষিতা, চাকুরীজীবী ও সুসাংস্কৃতিক মনের যুবতীর ঋষির মতো গাঁইয়া, স্বল্পশিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তান ঋষির মধ্যে কী এমন খুঁজে পেলো ভগবান জানেন।
দৌড়ঝাঁপ করে, কাকের মতো স্নান সেরে, না খাওয়াদাওয়া করেই ঋষি জামাকাপড় পড়ে নিলো। সবকিছু সেরে ও যখন সিঁড়ির বুকে পা রাখলো তখন অফিসে জয়েন করার করার জন্য মাত্র পঁয়ত্রিশ মিনিট সময় বাকী আছে।
একদৌড়ে অটোস্টান্ডে পোঁছে ও সোজা অটো ড্রাইভারের ডানদিকে বসে পড়লো। বসামাত্র অটো চলতে শুরু করে দিলো। গতকালের কোনো ঘটনাই এই মুহূর্তে ওর মনে আসে নি। শুধু ওর অফিস এসে মনের ধাবায় খাটিয়া পেতে বসেছে।

ক্রমশ

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।