সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ৩১)

স্ট্যাটাস হইতে সাবধান
— ভাই? তোমার ভাই হতে কে চেয়েছে শুনি? আমি তোমার দেওর গো সোনাবৌদিভাই। ভাই হলে তো তোমায় দিদি বলে ডাকতে হবে। ভেবে দেখো বৌদিভাই শব্দটার মধ্যে কী সুন্দর একটা বৌদি লুকিয়ে আছে! এছাড়া তোমার ওই দুষ্টুমিষ্টি চোখটার যে কী টান সেটা যদি তুমি জানতে। আর এই টোপা কুলের মতো গাল দুখানি — উপস্, দেখলেই হাতদুটো আদর করার জন্য একেবারে নিসপিস করে ওঠে।
— সবই তো বুজলুম, কিন্তু ওই অনামুখোটা মানে তোমার দাদাটা একটু যদি তোমার মতো হতো, হাতে আদর না করুক গে যদি তোমার মতো এরকমটা একটু মুখেও আদর করতো তাহলে কী আর আমার কোনো দুঃখ থাকতো বলো?
— কী কথা বলোগো সোনাবৌদিভাই? তোমাকে আদর না করে কেউ থাকতে পারে? তোমাকে দেখলে তো শুকিয়ে যাওয়া পুকুরেও সমুদ্দুরের মতো ঢেউ উথলে উঠবে গো, কেটে ফেলা গাছেও ফুল ফুটবে। আর তোমার ওই বাঁয়া তবলার মতো দুটো ঝুলে পড়া ঠোঁট — দেখলেই একেবারে কামড়ে ছিঁড়ে নিতে —
— জানো তো ভাই, ওই দামড়া – গুঁফো, গামলার মতো ভুঁড়িওয়ালা হোৎকাটা একটা শুকনো বাঁশের মতো সরলরেখাকে নিয়ে ফষ্টিনষ্টি করে বেড়াচ্ছে। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে ভাই। আমার পেছন থেকে ওই বাঁশটাকে বের করে আমায় বাঁচাও ভাই…
বলেই ফুলটুসি ছেলেটার গলা জড়িয়ে ধরে।
— হ্যাঁ তো, বাঁচাবো তো অবশ্যই। তোমাকে বাঁচাতেই তো ভগবান আমার জন্ম দিয়েছেন গো। বলি কোথায়? কোথায় সেই বদমাইশটা — শুধু একবার ওর কাছে আমায় নিয়ে চলো, আমি যদি ওর হাত থেকে তোমার পেছনের বাঁশটাকে টেনে না বের করতে পারি তাহলে আমি এক বাপের বেটাই না গো সোনাবৌদিভাই, শুধু একবার আমাকে তার সামনে —
কথা শেষ করতে না দিয়েই তড়াক করে উঠে পড়ে ছেলেটির হাত ধরে টান মারে।
— এইমাত্র ও সেই বৃহন্নলাটাকে নিয়ে ওই রবী ঠাকুরের মূর্তির দিকে গেছে। চলো শিগগীর, একেবারে হাতেনাতে ধরতে হবে, নইলে আবার মিথ্যে বলে…
কাকে কথাগুলো বলছে ফুলটুসি? কথাগুলো বলে ফের হাত ধরতে যেতেই হাতের মুঠো হাওয়ায় ভরে গেলো, ওর ধারেকাছেও ছেলেটা নেই। সবকিছু ভোঁভাঁ। ফুলটুসি ডাইনে তাকালো ফাঁকা — ডাইনে তাকালো কেউ নেই ফাঁকা, পেছন ঘুরলো — সেই কদমগাছটা একা দাঁড়িয়ে আছে, আর সামনে? সামনের দিকে তাকাতেই —
ক্রমশ