সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ১৮)

স্ট্যাটাস হইতে সাবধান
— কেঁদো না কেঁদো না লক্ষ্মীটি, কাঁদলে আবার তোমার মুখের মেকাপ চোখের জলে গুলে গিয়ে মুখটাকে গঙ্গাযমুনা করে দেবে।
— করলে করবে, তাতে তোমার কী? ও মাগো…
— না, আমি বলছিলাম কি, মুখের ভেতর আফ্রিকান মানচিত্র নিয়ে গেলে তোমার মা আবার তোমায় চিনতে পারবেন তো?
— সে তোমার ভাবতে হবে না, আমি কীভাবে যাবো না যাবো — অ মাগো, মূর্খটা কি বলছে দেখো, আমাকে এ বাড়ি থেকে নিয়ে চলো গো মামনি…
— তোমার মামনিকে আসতে হবে না, আমিই তোমার শাড়িব্লাউজ, সাজগোজের, মেকাপের, যাবতীয় সব আর তোমার আসল আর ঝুটো গয়নাগাটি সবকিছুকে স্যুটকেসে ভরে তোমাকে তোমার মামনির কাছে রেখে দিয়ে আসবো। ওঠো, ওঠো তো দেখি, হাতেমুখে জল দিয়ে শাড়িব্লাউজকে একটু ঠিক করে নাও, ও মেক আপটা ফের ঠিকমতো করে নিও কিন্তু…
আমি বরং ততক্ষণে একটু ডাক্তারবাবুর সাথে কথা কয়ে নিই।
— ও মা গো, কী সব্বোনেশে কথা গো, শুনে যাও গো মামনি তোমার অপদার্থ জামাই আমাকে বাড়ি থেকে তাড়াতে চাইছে গোওওও —
— আমি কোথায় তাড়াতে চাইলাম? ও বিধুমুখী, সে তো তুমিই চলে যাবে বললে। কী পালটি খাওয়া মেয়েরে বাবা!
— ও হে তলাপাত্র — কী হয়েছে বলো দেখি! হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ছিলে কেন গো? গতকাল রাতে কী খেয়েছিল বলো দেখি — এসিড থেকেও তো ওরকম হতে পারে, ওমা কি কান্ড দেখো দেখি, অ বৌমা, তুমি অমনভাবে মেঝের ওপর লুটোপুটি খাচ্ছো কেন ? কেউ মারা গ্যালে অমনধারা করে দেখায়। তোমার কে গেলেন গো বউমা?
ক্রমশ…