কবিতায় স্বর্ণযুগে প্রদীপ গুপ্ত (গুচ্ছ কবিতা)

১| আমার চাঁদ

আকাশ কেন আপনমনে চাঁদ কে ভাঙে
ভাবছি বসে তাকিয়ে আমি তোমার পানে
কে বেশী সই সুন্দরি, ওই চাঁদ আকাশের
নাকি তুমি! মন যে বলে সেইসে তুমি সেই
সে তুমিই।
সেই সে যেদিন প্রথম তোমায় দেখেছিলাম
আকাশী নীল চোখেতে চোখ রেখেছিলাম
যেমন করে পদ্মফুলের পাপড়ি ফোটে
থরথর থর কাঁপন তোমার সলাজ ঠোঁটে।

আকাশ কিভাবে বুঝবে এসব মরমি কথা
পূর্ণিমার ওই চাঁদের ক্ষতর গোপন ব্যাথা
তাই সে আবার ভেঙে ফেলে চাঁদ গভীর দুখে
নিষ্কলঙ্ক চাঁদ পেতে চায় আকাশ বুকে।

আমি আমার চাঁদের মুখে তাকিয়ে থাকি
অহংকারী ভালোবাসাটা গোপনে রাখি
আমার আকাশ রোজ সন্ধ্যায় জোতস্না মাখে
নিরুপায় চাঁদ দুঃখ্য লুকায় শিরিশ শাঁখে।

২| স্মৃতিসুখ

যখন চিলের ডানা এসে থির হয়ে বসে
অশথের ডালে,
তখন পাতার জানালারা বন্ধ করে
আলোর কপাট।
ধীরে ধীরে গোচরের বাইরে চলে যায়
রূপ, বর্ণ, রঙ।

তবু স্পর্শ জেগে থাকে।
জেগে থাকে আলোর সুবাস, আঁধার শরীরে।
রসেরা মনের অগোচরে ভিয়েন বসায়।

তুমি বুঝি সঙ্গ খোঁজ…!
আমি স্মৃতি।

দূরে, চরার বুকে
হাহাকার ভাসে..

৩| মায়াবতী

চোখের কুয়াশায়
কোনো বাতিঘরের আলো ছিলো না।
সুতরাং নাবিক তো পথ হারাবেই।

না সেখানে কোনও বারমুডা ট্র‍্যঙ্গেলের অস্তিত্ব ছিলো না কখনও
তবে একটা জলে ডোবা পাহাড় থাকলেও থাকতে পারে।
কোনও কম্পাস অথবা দূরবীনে দেখা যায় নি কোনও দূরবর্তী দ্বীপ।

যে দ্বীপে কোনও মায়াবী হরিণীর শরীর
লুকিয়ে ছিলো ঘন দারুচিনি বনের আড়ালে।

কোন্ লক্ষ্মণ রেখায় অস্পষ্ট হয় স্বাতী, অরুন্ধুতি, কৃত্তিকা —
সেকথা জানে শুধু সমুদ্রের বুকে ছড়িয়ে থাকা গভীর কুয়াশা,
আর হারিয়ে যাওয়া বাতিঘরের আলো,
আর সেই মায়া কাজলের রূপটান দেওয়া দারুচিনি দ্বীপ।

ওহে পথিক, এই গভীর অসুখে
কার বুকে বেজে চলে মায়াময় এস্রাজের সুর !

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।