রম্যরচনায় প্রদীপ দে

হেসো না বিপদ আছে!
কত যে কথাই না শুনলাম, সেই ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি মুখভর্তি হাসি লেগে থাক -দুঃখু দুঃখু ভাব যেন একেবারেই না থাকে।
শিক্ষক, ডাক্তার , পরামর্শদাতা, উপদেষ্টার মুখে সেই একটি ই কথা — সব সময়েই হাসি মুখে থাকবে কোন রোগ বালাই থাকবে না। আর মনে রাখবে হাসিমুখে সব কাজ সহজেই সমাধা হয়। হাসিমুখের জয় সর্বত্রই।
চাকরি নেই -আয় নেই – গুরুজন অসুস্থ কি করে হাসি মুখে থাকি?
ছেলের বাড়ির হাসিমুখো মাষ্টারমশাই কে খুব কষ্ট করে হাসিমুখে বললাম — স্যার এমাসে মাইনেটা যদি মাফ করে দেন?
মাষ্টারের হাসি নিমেষে মিলিয়ে গেল, ক্ষেপে গেলেন — হাসতে আপনার লজ্জা করছে না?
আর একদিন নামী দাঁতের ডাক্তারের কাছে গিয়ে হাসিমুখে বললাম — ফিসটা যদি না নেন ভাল হয়!
এমন রাগ আমি বাপের জন্মেও দেখিনি — রোগ হয়েছে আর টাকা খরচ করবেন না – দাঁত কেলাচ্ছেন – দাঁতকেলানী?
বাড়ি সংক্রান্ত কাজে পরামর্শ নিতে রাজনৈতিক এক নেতার কাছে গেছিলাম। নমস্কার জানিয়ে হেসোমুখে বেরিয়ে আসছি, উনি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন — কি হলো? মাল ছাড়ো ?
আমি যেন কিছুই শুনিনি এমনভাব করে হেসেই দরজা ঠেলে বাইরে বেরিয়ে পড়লাম। ভিতর থেকে আমার উপর গর্জন বর্ষিত হলো — হেসো না বাইরে বিপদ আছে!
হাসতে হাসতেই মিনিটের মধ্যেই রাস্তায় পড়লাম আর খপাত করে জামার কলার একজন ষন্ডামার্কা লোকের মুষ্টিবদ্ধ হলো….।
লোকটিকে আমি চিনতাম, ভয়ে আমার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল , আগেও শুনেছি ওর নাম — ‘ বিপদ ‘ !