সব জানলা খুলে রাখি রোজ
রাত, ভোর, দুপুর, সন্ধ্যার সমস্ত
পল, বিপল, অনুপলেও
জানলা বন্ধ করার কথা মনে থাকে না।
কালবৈশাখী ঢুকে পড়ে ঘরে
ছড়িয়ে যায় বই-খাতা- মন –
টেবিলের ফুলদানি ভেঙে চৌচির
আমার শ্বাসে ঢুকে যায় দূষণের লেড, ক্যাডমিয়াম, কার্বনেটস।
হঠাৎ আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নামলে,
আমি জানলায় এসে দাঁড়াই;
ভিজে যায় আমার শৈশব, দুরন্ত কিশোরকাল
ভিজতে থাকে নাক, ঠোঁট, জিভ, ফ্যারিংস এবং ল্যারিংস
তাছাড়া হৃদপিন্ড, ফুসফুস এবং জরায়ুও; উপশমহীন –
খোলা জানলায় দীর্ঘশ্বাস ভেসে আসে দুর্গার;
ধুনো আর শিউলির গন্ধ মেখে।
অঘ্রানের হলদেটে পাতারা উড়তে উড়তে
বলে, এগোলাম –
তুষারমৌলি ছুঁয়ে আসা হাওয়ারা জানলা পেরিয়ে ঘা দেয় পাঁজরে
তাকেও ফেরায় না কখনো আমার স্বভাব -সঞ্চয়ী জানলা
শুধু যখন একমাত্র ছায়াটি আমার
ছায়া না ফেলে পেরিয়ে যায় জানলা
এই কমলাকোয়া রঙিন দুপুরেও
শীত করে আমার, খুব শীত করে…