ধরুন আপনার জন্য একটা সরাইখানা নির্মাণ করে দেওয়া হল, আপনি সেখানের একমাত্র অধিপতি, — ভাবলে ভাবাই যায় করলে করাও যায়, আপনি কি সেবা করতে প্রস্তুত? একজন কবি সবসময় প্রস্তুত থাকে সেবা করতে, তাই আপনি/আপনারা চান বা না চান সে লেখে যায়, তার নিজস্ব যাপন প্রস্তুতিগুলি অনবরত দান করে যায়। পৃথিবীতে উপযাকের সম্মান খুব কমই থাকে, সেই অর্থে ধরতে গেলে কবি একজন উপযাচক, কাজেই সম্মানের আশা কবিরা কমই করেন।
আশা শব্দটির ব্যঞ্জন মোটেও সরল নয়, যেখানে আশা থাকে সেখানে দানের ছায়া কমে আসে। কাজেই কিছু পাবার আশায় কবিরা ভিড় বাড়ালে প্রথমেই সেটা অকেজো হয়ে যায়। দান সর্বোচ্চ স্বার্থহীন হতে হয়, তাবলে উচ্চাশা থেকে সরে আসাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। নিজের দানের ব্যাপারে উচ্চাশা থাকাটা খুব দরকার, তারচেয়ে বেশি যেটা দরকার তা হল আত্মমর্যাদা। যে ব্যক্তি আত্মহীন তার সবই সার। তার সালোকসংশ্লেষ না এর বরাবর হয়ে যায়।
নির্ভরতা কবিকে নিষ্ক্রিয় করতে শুরু করে, যে কবি যত বেশি নির্ভর হয়ে যাবে সেই কবি তত তাড়াতাড়ি পিছিয়ে যাবে দৌড় থেকে, এটা নিখাদ সত্য যে সব কবিই রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, বিনয়, শক্তি বা তারাপদ রায়ের মতো হয়ে উঠতে পারেন না, কখনো সঠিক মূল্যায়ন এর অভাব কখনো সূযোগ এর অভাব আবার কখনো কবির ব্যক্তিগত কলমের নিষ্ক্রিয়তা এর জন্য দায়ী হয়। তবু কবিতা হয়, ভাস্কর হয়, স্বদেশ হয়, বারীণ হয়, প্রত্যেকের নিজস্ব স্বর হয়, আলাদা ভাবে অন্য চালে।
নীহার কবিতা জগতে নিজের স্বর তুলতে চেয়েছিল, তার দানকে ক্রিয়াশীল করতে চেয়েছিল আরও, একটু একটু করে সময় এগিয়েছে, প্রেম এসেছে প্রেম গেছে, আপণজনেরা অনেকেই আজ সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের পোশাক পরেছে। নীহার শুধু একটা বিস্তৃত স্লোগানের নিদ্রায় ঠোক্কর দিয়ে চলেছে—
“কবিতা হয়, কবিতা রয়, কবিতা বয়, শুধু কবিদের আলোকচিত্র আর কলমের নিবগুলো, মরুর কলহে পোশাকের সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে নেয়।”