কবিতায় প্রজ্ঞাপারমিতা ভট্টাচার্য

পৃথিবীর শুশ্রুষা চলছে… আস্তে…

এবার নিজেই সে হাতে নিয়েছে খাগের কলম
মাটির দোয়াতখানিতে ডুবিয়ে নিচ্ছে বারবার প্রতিবার
তারপর খসখস করে লিখে চলেছে তার বিষাদ মনের কথা ।
শরৎ নাকি ভেসে যাওয়া মেঘ ,পেঁজা তুলোদের দুষ্টুমি,
তার আলোয় নর্তকীর দেহ বিভঙ্গে অপার্থিব নীল আভা
কত সাধের পালক নরম সাদা কাশ ঐ দিগন্তিকায়।
আমি শরৎ, তোমাদের উৎসব মনটাকে যত্নে বুকে বাঁধি বারবার
ধানের ক্ষেতে শিষের মাথায় হাত রাখি , আদর করি কত।
বাংলার মাঠ পুকুরঘাট শহর কোলাহল জানো এবার আমার বুকে স্বজন হারানোর হাহাকার
দক্ষিণে ধামাখালির রতন ঘরামির উঠোনে ছেলেটা কাঁদছিল
চোখের জল চোখে শুকিয়ে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল লক্ষ্মী হাঁসদা ,সে ঘুম ভাঙেনি
সার বেঁধে শুয়ে আছে সাদা চাদরে ঢাকা মুখ এ হাসপাতাল ও হাসপাতাল
দিন রাতের হিসেব করে না ধন্বন্তর ছুঁয়ে দেয় তপ্ত শরীর
নাইটেঙ্গেলরা অবিরাম হেঁটে ফেরে জ্বরকে পাশে নিয়ে দেশ দেশান্তর
এই নাও আমার মেঘ তুলোতে মুছে দাও রোগ জরজর সাদা ঠোঁট
এই নাও আমার নীল আলোতে ধুইয়ে দাও নিভে আসা হাজার লক্ষ চোখ
আমার কাশের ধবল মাতন লাগুক নিভু নিভু প্রাণে যারা শুয়ে আছে কাছে দূরে
যতক্ষণ পৃথিবীর শুশ্রূষা চলছে এসো অনুচ্চ থাকি কিছুক্ষণ।
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!