সাতে পাঁচে কবিতায় পিয়ালী বসু

ভাস্কর্য 

( এক )
সরে যাচ্ছি।
স্মৃতির ভেতর নিস্তব্ধ মুগ্ধতায়
বিগত প্রেমিকের ইতস্তত কলহপ্রবণ ছবিটিও
ফ‍্যাকাশে হচ্ছে।
সম্পর্ক পুরনো হলে
শরীরে শরীর ভাঙ্গে ভরন্ত দুপুরেও।
কথার ভেতর স্রোত ঢুকে পড়ে
আর, চুমুর মধ‍্যে ঢেউ
অথচ, স্মৃতিবাহী প্রতিটি স্তব্ধতা, আমাকে বারবার বুঝিয়েছে, মুহূর্ত কুড়োনো প্রতিটি ভ্রম আদতে প্রিয়তর সঙ্গম – শোক ব‍্যতীত কিছুই নয়।
( দুই )
এই ঘরে বাইরের হাওয়া পৌঁছায় না। নিঃশ্বাসের দ্রুততা ঋতু বদলের মতোই এ ঘরে ক্ষণকালীন যাপন সারে।
নিজেকে সরিয়ে নিয়ে ভাবি, এই যে অর্থহীন অপার বিষাদ, এও কি আলোর বিপরীতে অনুভূমিক চলন নয়?
বুক ভরে ঘ্রাণ নিই। ক্রমশ ফ‍্যাকাশে হতে থাকা সম্পর্কে ওডিকলনের গন্ধ ভরে তাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা বৃথা মনে হয়।
( তিন )
দৃশ‍্যের পর দৃশ‍্য জমে।
ভারকেন্দ্র থেকে সরে এসে
ক্রমশ গুঁড়ো হতে থাকা স্বপ্নের ভেতর
অকাল বসন্তকাল এসে বসে।
জীবনের পরতে পরতে জড়িয়ে থাকা ফর্মালিন গন্ধ আসলে বেঁচে থাকার তাগিদটাকে আরও স্পষ্ট করে।
প্রতিটি অপেক্ষাই
আসলে প্রতি মুহূর্তে নিভৃতে ছুঁয়ে যাওয়া
অন্তরীণ আত্মঘাতী ভালোবাসা মাত্র
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।