সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে পিয়াংকী (সাবেক কথা – ১২)

সাবেক কথা

কুয়ো

যুবতী কন্যার গায়ে মেঘ। জলের ওপর দিয়ে সমান্তরালে বয়ে আসছে মিহিদানার মতো গুটি গুটি সঞ্চিত কথা। সেসব কথায় জাল আছে, আছে দড়ি সুতো কাঠি কাঁচি। অথচ কীইই আশ্চর্যভাবে কোথাও একটাও সীমান্তরেখা নেই। যুবতীর চুল ভিজে যাচ্ছে, তছনছ হয়ে গেছে অনতিদূরের ঘরবাড়ি, আকাল লেগেছে গ্রাম-গঞ্জে শহরে-গ্রামে কিংবা মফস্বলি বৃত্তে।

কিন্তু এসবের সত্যিই কি দরকার ছিল? একটা মেঘ যদি আটকেই যায় যদি পথ ভুল করে,যদি এক অনার্য অনাগত তাকিয়ে ফেলে জলের দিকে,যদি দাগ ঘষে জন্ম দেয় এক থোকা মালতী… কি করার আছে? তিনি এসব বোঝেন না,তাঁর নামে কোনো কুয়ো নেই,বরাদ্দ নেই কুয়াশাও। সীমান্ত অতিক্রম করা হয়ে গেলে পড়ে থাকে কয়েকটা ভাঙাচোরা ইঁট আর কিছু পূর্বকথা, কিন্তু তাতে তো পেট ভরে না। পেটের জ্বালা বিরাট, গর্ত বোজাতে হলে যত মাটি লাগে, তার যোগান দেবে কে? এইসব গাদাগাদি প্রশ্ন উত্তর বসে থাকে বঁড়শি ফেলে।
কুয়োর পেছনে ততক্ষণে জমে উঠেছে আগাছার দল। আড়ালে থাকা পর্ণমোচী এখন পরিপুষ্ট হরিৎবৃক্ষ।

সময় নেই,হাতে আর সময় নেই। হেলায় হারিয়ে ফেলেছ সব,যেটুকু বাকি, কুড়িয়ে নাও,তুলে নাও,ভরে নাও। জেনো কুয়োর হাঁ-মুখ ছোট হয়ে আসছে ধীরে ধীরে…

১২ই ভাদ্র
দুপুর ২ঃ১২
ইছাপুর

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!