সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে পিয়াংকী (সাবেক কথা – ২০)

কড়িবরগা
শোনো না, এই যে বালিকা তোমাকেই বলছি , তোমার যাবতীয় ক্রোধ আর আক্ষেপ কোথায় জমা রাখো? প্রতি দুপুরে রাজধানী যখন শান্ত হয়ে ওঠে, যখন বক বসে থাকে পুকুর পাড়ে,যখন কলাপাতায় ঝিমিয়ে যায় বুকের ওপরভাগের দেরাজ তখনও কি তোমার একটিবার সাধ হয় না কড়িবরগা হাতে তুলে নেবার? মহাদেবের ত্রিশূল অথবা রামের ধনুক — সহাবস্থান মিলে গেলে কেন বিসর্জন দিতে যাও প্রতিমা-সাজে? জানো না, সুখী পান্নার পাশেই বসে থাকে আজন্ম দানবী।
বালিকা,তোমার ঘাড়ে কাঁধে এত দাগ রেখে দিয়েছ! গ্রীষ্মের লোভ তো ওদের পুড়িয়ে দিচ্ছে একনাগাড়ে। পুড়ে কি সুখ পাও? শোনো মেয়ে, এসো তোমাকে যন্ত্রণা শিখিয়ে দিই খানিক। যখন আরাধ্য স্মরণ করবে সন্ধ্যায় অথবা ধ্যানস্থ হবে জানালায় বেয়ে ওঠা মাধবীলতার প্রেমে তখন যদি ঝুপ্ করে খসে পড়ে তোমার হাতের লালরং, জেনে রেখো তুমি কড়িবরগার মতো জমতে শিখে গেছ একরত্তি বরফের নেশায়। সেদিন ভয় পেয়ো না। ভয়ের ভিতর বাস করছেন তোমার ইষ্টদেবতা। তাই পারলে একটা উড়ালপথ গড়ে দিও দৈর্ঘ্য মেপে। সেই পথে যখন বাজার বসবে, ঝিঙে পটল অথবা কলমিলতা বিক্রি করবেন বয়স্ক, সন্তান কোলে দাঁড়িয়ে থাকবে এক অসহায় মা অথবা কাঁধ নির্ভর প্রেমিকার আঙুল ছুঁয়ে অকারণ হাসবে পাখিজন্মদাতা তখন দেখো কেমন তাম্রবর্ণ হয়ে উঠছ তুমিও। তুমি তো প্রারব্ধ মায়া ছাড়া কিছুই নও,এই যে অযুত সংস্কার, ম্রিয়মাণ তুলো অথবা যোগীর তিলক ঈশ্বর দিয়েছেন তোমায় তা কি সকলে পায় বলো?
এবার যাও, সাজিয়ে নাও টালির চাল। খুব সাবধানে খুলে রাখো একটি একটি করে অস্ত্র। বৃষ্টি আসুক, ঝরঝর চোখে ভিজে যাক আদিম কান্না।ছাদের দিকে তাকিয়ে দেখো ক্রমশ শিথিল হচ্ছে কড়িবরগার লোভ। ওই তো একদল সৈনিক, তোমায় উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে আসছে ওরা। এ কী!হঠাৎই পিছিয়ে যাচ্ছে কারা যেন! ওরা কারা? ওদের গায়ে কত বছরের বাসিভাতের টক গন্ধ। ফার্মেন্টেড হচ্ছে যাবতীয়
তাকাও বালিকা, বরগায় এখন লতানো অর্কিড। জলছপছপ ভোর, ছোট্ট ছোট্ট পাখি,পোকামাকড়। প্রাণসঞ্চার। কৃষ্ণ স্বয়ং নেমে আসছেন গুণে নিতে তাঁর হিসেব করে রাখা তুলসী মঞ্জরী…
৩ রা বৈশাখ
মধ্যদুপুর ১২ঃ৩২
ইছাপুরের বাড়ি