সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে পিয়াংকী (পর্ব – ১৮)

স্টেশন থেকে সরাসরি পর্ব ১৯
ইংরেজি ৬ ই সেপ্টেম্বর ২০২১
বাংলা ২০ শে ভাদ্র ১৪২৮
সোমবার
“আয় বৃষ্টিফোঁটা তোকে ছুঁই কতদিন হল তোর গায়ে প্রজাপতি হয়ে বসিনি”
সন্ন্যাস আসলেই একটি নেশা। ঘষামাজা দুপুর। চুপচাপ বসে থাকা ঝুলবারান্দার গায়ে নাছোড় অর্কিড। সব গাছে ফুল ফোটে না।বায়োলজিকাল ইমব্যালান্স জানি। মেন্ডেলিফের পর্যায়সারণী মনে পড়ে।
ধুয়েমুছে বুকের ভেতর তুলে রাখি তসবীর।তান সেন আসেন। আদা-চা করে দিই।সাদা পাতা চেয়ে নেন।খসখস করে কীসব লেখেনও। যদি সুর লাগাতে বলেন, আমি তাকাই না সেই ভয়ে। এর চেয়ে ঢের ভালো বৃষ্টিফোঁটা দেখা। পুকুরে ডুবে মরে যত যত জলজ জন্ম আমি তাদের পাশে লিখে রাখি দু’পাঁচখানা কবিতার পংক্তি।
আড়ালে সূর্য পুরুষ। শ্রাবণী উত্তাপে ভিজে যায় জানালার ঘষা কাচ, ছায়াটুকুই অবশিষ্ট, একসময় সেটাও ঘন অরণ্য হয়ে চেপে বসে কাঁধের ওপর। স্লিভলেস ব্লাউজের পাইপিন ঘেঁষে থাকা যতটুকু অন্ধকার তাকে ঢেকে দিই আগুন রঙের সিল্কে। রাস্তা হারিয়ে বসে থাকে যেসব শ্রমিক তাদের বর্ষাপাঁচালী বলে ডাকতে যাব ঠিক এমন সময় ঘোর কেটে যায়।চিমটি দিই নিজেকে।দেখি লালপিঁপড়েরা চাক বেঁধে ঘিরে নিয়েছে আমার বর্তমান ভবিষ্যৎ…
কদম আমার প্রিয় নয়।ওকে দেখলেই ফুল কম কাঁটা মনে হয় বেশি তবুও অভাগী বিকেলে সে-ই সাথ দেয়।”মেঘ মেঘ” বলে চিৎকার করে।আমি প্রতিবেশীর উঠোনে নার্গিস হয়ে ফুটে থাকা কাঞ্চন দেখতে দেখতে কাটিয়ে ফেলি আরও একটা শ্রাবণদিন।
আখরোট পেস্তা উল্টোদিকে ভিটেমাটি ঘরবাড়ি, যেন ড্রাইফ্রুটস এবং ভেজাশরীর। কাচের গায়ে ফুঁ দিই।দ্বিগুণ শব্দে ফিরে আসে সন্ধের বিলাবল। দরজার থেকে জানালার দৈর্ঘ্য প্রস্থ উচ্চতা কম,অথচ দাম বেশি।এসব দরদাম মাপতে মাপতে পেরিয়ে এসেও পার পাই না।পা পেঁচিয়ে ধরে ময়াল সাপ,তারা জানালার ঘষা কাচ ভেঙে উদোম খোলা আকাশ করে দেয় বিছানাকে
চুমু খাই।কাচের ঠোঁট বড্ড শান্ত নরম, কেন্নোর মত গুটিয়ে নিতে চায় নিজেকে। দৌড়াই আয়নার কাছে। ঘন খয়েরী লিপস্টিক। ফিরে এসে দেখি ঘষাকাচের শরীর জুড়ে জোনাকিফুল।
ততক্ষণে রাত নেমে এসেছে মাটির কাছে। পুরোনো টেপরেকর্ডারে ক্যাঁচক্যাঁচ আওয়াজ। বৈষ্ণব পদাবলীর বিদ্যাপতি বলছেন ” এ ভরা বাদর মাহ ভাদর শূন্য মন্দির মোর “
বুঝি,চুমু-ই আদিম এবং অকৃত্রিম উদ্দীপক…