T3 শারদ সংখ্যা ২০২২ || তব অচিন্ত্য রূপ || বিশেষ সংখ্যায় নন্দিনী সেনগুপ্ত

অরণ্যের কনসার্ট
১
গাছে গাছে কনসার্ট জেগে ওঠে।
এইখানে নাটক শুরু হবে কেঠো সিঁড়িতে।
এখন বৃষ্টি কিছু প্রিল্যুড জাগাবে।
গৌরচন্দ্রিকা ধরো নিবিড় বৃক্ষতনু।
মৃদু মৃদু মানুষের তৈরি অরণ্যে শ্বাপদ আসেনা তত ঝালায় তুঙ্গসুরে।
ঝুলন্ত আলোকলতা চাঁদের কিনারে
সোপ্রানো প্রেমবন্তী… ঈর্ষা সয়ে সয়ে
নিয়েছে মুখোশ পরে।
কনসার্ট শেষ হলে ক্লান্ত বেকারি থেকে
দুটো রুটি কিনে বেহালাবাদক
আবার অরণ্যে ফিরে যাবে।
২
তুমি কি শহরের মাত্রাছাড়া ধাতুদোষ নিয়ে
আক্রমণ শানিয়ে তুলবে?
আসলে অরণ্যের কোনো কোনো গাছের বীজ বিলুপ্ত হবার পর থেকেই
এসব হয়… ছোটখাট সমস্যা লেগেই থাকে
সভ্যতার জননাঙ্গ কিম্বা নদীর উৎসে।
তুমি তো আর সেভাবে প্রার্থনার জন্য
সবুজ ঘাসের গালিচা বিছিয়ে দিতে পারবেনা
কম অথবা অতিরিক্ত বৃষ্টির দোহাই দিয়ে
সহজেই পার পেয়ে যায় খনিজ
যান্ত্রিক কীটে
শহরের খোপকাটা বাড়ি খালি পড়ে থাকলে
তাদেরও তো লাভ বই ক্ষতি কিছু নেই।
৩
বৃষ্টিজলে স্নান সেরে দুহাত আকাশে তুলে রাখো
মরা কোষ ঝরে যাক বারুদের গন্ধের সাথে
পাথরের মত মুখ ধুয়ে নেবে চন্দন আতরে
মানুষ মুখোশ পরে করাত কিরাতদোষ
বেছেছে হিসেবী হাত ভালোমন্দ বৃক্ষলাভক্ষতি
তামসিক প্রান্তরে বাতাসের কল নড়ে নড়ে
শক্তিভক্তিযোগ সমিধ জ্বলেছে ধিকিধিকি
অরণ্য জানে কত আহা কর্ম স্বাহা বর্ম
মানুষের ধর্মে বড় মতি।
৪
উর্ধমুখী শাখাপ্রশাখা দেখে
তোমার কি
কুচকাওয়াজের বন্দুকের নলের কথা
মনে পড়ল?
নাকি চার্চের অর্গানের ধাতব নলের কথা?
ভয় নাকি সুর…
কী ঢুকেছে মহা ওঙ্কারধ্বনিতে আগে?
কীভাবে শিকড় গেড়ে বসে আছে
অন্তহীন সুড়ঙ্গের নিচে
গুপ্তচর অর্বুদে
অরণ্যের মাটিতে
বিছিয়ে রাখা মাইনের তার
টপকে টপকে কতদূর ফেরা যায়
মর্মের গানে