সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে নীলম সামন্ত (পর্ব – ৮)

ব্রহ্মমুখী সূর্য ও রেবতী রেবতী ঠোঁট
পৃথিবীর সমস্ত মহাবিদ্যা ঈশ্বরমুখি। দীর্ঘ আলোচনার শেষে এই চারটে শব্দ নিজেদের মতো উঠে এলো। ততক্ষণে আমাদের খাওয়া দাওয়া শেষ। হাতের মধ্যে ঘোরাঘুরি করছে পিঙ্গল অভ্যাস৷ টেবিল ম্যাটে শান্ত হাতে জড়ো করছি অযাচিত কাঁকর, ভাত শুকিয়ে চাল হয়ে যাওয়া দানাদার মহিমা। আলোচনা গভীর হলে অনেকের ঘুম পায়৷ তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে আকাশ খুঁজি যেখানে অনেক তারা মিলেমিশে চর্যাগীতি গাইছে। প্রত্যেকের সামনে হবনকুন্ড।
বহুদিন পর পর আমি যখন উনুনে বসে রান্না করি, আগুনে পুড়ে যাওয়া কাঠ আর কড়াই এর পেছন দেখে ভাবি মহাবিদ্যা আসলে কি? পুড়তে পুড়তে শুদ্ধ হওয়া নাকি একটা অস্তিত্ব জ্বলে ছাই হয়ে নতুন অস্তিত্বের অপেক্ষা, সে আসুক কিংবা না আসুক৷ অর্থাৎ সাধনার পথ যেমনই হোক সেটা কেবলমাত্র চলা। এক জন্ম, বহু জন্ম ধরে নিরাময় কুড়োতে কুড়োতে এগিয়ে যাওয়া।
নিরাময় একটি শান্ত হাতিয়ার, যাকে হাত করে রাজার নীতি প্রয়োগ করে মৎসগন্ধা মস্তিষ্ক। আর জালে ফেঁসে থাকে সৈনিকবৃত্তি। কেন বলতো নিজের হেরে যাওয়া নিমিত্তের জন্য অন্যকে দায়ী করো। শব্দে শব্দে হুংকার দিয়ে আঙুল চালিয়ে দাও পেটের ভেতর। কিছু ভাঙে? নাকি জোয়ার ওঠে? আমার পেটে কোন জাল নেই, এমনকি হাতদুটোও ততখানি কালো নয় যতটা হলে ছিনতাইয়ের ছকে বোড়ে নিয়ে এগোনো যায়৷
– এসব কোন ব্রহ্মমুখি কথা না৷ মহাকালে মিশে থাকা উলুখাগড়া। যার প্রয়োজন আছে আবার নেইও৷ নিজের ভেতর রোষ জন্ম হলে মনে রেখো ঠোকাঠুকির খেলায় একদিন মানুষ আগুন জ্বালিয়ে ছিল। সেই আগুনে পুড়ে জীবন এগিয়েছে। সাথে ষড়রিপু৷ যা শুদ্ধিকরণের কথা বলে না৷ শুদ্ধিকরণের জন্য আগুন আত্মায় ঘুমিয়ে থাকে যেখানে পৌঁছোনর সুক্ষ্ম সেতু নির্মাণ করছে ভিক্ষুক ভিক্ষুণীর দল। হৃৎপিণ্ডে, ঠোঁটে, সূর্যে, জপে, তপে আধখোলা চোখ। কালের ভোরে একশ আটটা নীল পদ্ম তখন আকাশগঙ্গার প্রাচীন সুপ্তোত্থিতা।