সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে নীলম সামন্ত (পর্ব – ১৪)

ব্রহ্মমুখী সূর্য ও রেবতী রেবতী ঠোঁট

জীবন ঈশ্বরের আগে বিজ্ঞান দেখতে শিখিয়েছে৷ বহুবার চেষ্টা করেছি স্নান সেরে উপাচার নিয়ে ঈশ্বরের সামনে বসে একাগ্র হতে৷ প্রদীপ, ধুপ, ধুনো, হবন ইত্যাদির গন্ধে আরাম হয়। চোখ বুজে আসে। বন্ধ চোখের পাতায় আগুন জ্বলে৷ তার স্ফুলিঙ্গ ছিটকে বেরিয়ে যায় অন্ধকারের দিকে। যেন ব্রহ্মান্ড৷ ছকে ফেলা সহজ সরলকরা।

বৃহদাকার কোইন্সিডেন্সগুলো কোন মতিচ্ছন্ন বাউল নয়, যে পৃথিবীতে প্রাণ পৌঁছে দিয়ে হারিয়ে যাবে নিজের মতো করে৷ কিংবা একতারার তার নিয়ে স্পেস টাইম কার্বে ঝুলিয়ে দেবে শখের উইন্ড চেইম। এই সৃষ্টি বা এই ধ্বংস কোনটাই ইতিহাস না৷ একটি চলন্ত চাকা যা ফিরে যায় না আবার দাঁড়িয়েও থাকে না৷ অথচ বিনয় মজুমদার কি সহজেই লিখে দিলেন ‘ফিরে এসো চাকা’। মনে পড়ছে চাকা আবিষ্কারের দিনগুলো। জীবন কতই না সহজ হয়ে গেছিল! গরু ঘোড়া সকলেই মানুষের সঙ্গী। সেদিনও, আজও। সময়টা বয়ে গেছে পৃথিবীর আহ্নিকগতির হিসেবে৷

বিজ্ঞানের প্রমান খাতায় কলমে৷ ঈশ্বর কেবল বিশ্বাস৷ যা বাড়তে বাড়তে হ্যালুসিনেশন পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে দেখিয়ে দেয় জীবন এক অন্তহীন সমুদ্র৷ যার নোনা জলে পা দিলেই বিজ্ঞান জড়িয়ে ধরে৷ শক্ত করে ধরতে ধরতে দেখিয়ে দেয় হ্যালুসিনেশন দিবা স্বপ্ন ছাড়া কিছুই না৷ বাঁচতে হলে আবেগ ছাপিয়ে তুলে ধরতে হবে যুক্তিতর্ক, দেখিয়ে দিতে হবে সৃষ্টি জানা অংশটুকু আমাদের কাছে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র যাপন বৈ কিছু না৷ তাই অজানা অংশটুকু ঈশ্বরের পিঠ না বলে অনাবিষ্কৃত মহাকাল বললে প্রজন্মের বিকাশে ফুল ফোটে৷

এইসব ভাবতে ভাবতে রাত কেটে যায়৷ ঈশ্বরমুখী মানুষগুলোর মুখে আরও জাঁকিয়ে বসে অন্ধ অনুরাগ আর আবেগের শীতলপাটি৷ আমিও ঈশ্বর চাই৷ আত্মার মিলন চাই। তাই নিজেকেই জিজ্ঞেস করি মৃত্যুর পর আছে কি? অতৃপ্ত বা তৃপ্ত। কেউ কি ঘুরে বেড়ায় জন্মাতরের বোঝা কাঁধে নিয়ে? জানিনা। তাও ক্ষণিকের সুখ উপভোগ করতে চেয়ে আশায় জাল বুনি৷ কত ভালোবাসার সম্পর্ক একে অপরকে প্রতিশ্রুতি দেয় পরজন্মে হাত ধরার। নিতান্তই হাস্যকৌতুকের যাত্রাপালা। সাহিত্যের ছাঁচে ঢেলে মহাকাশ সহ সমস্ত নক্ষত্রদের আমন্ত্রণ করে জেনে নিই মানুষ একটি এমন প্রাণী যে ঠিক জেনেও ভুল আঁকড়ে সুখ খুঁজে যায়। জেনে নিই তার মনের তৃতীয় স্তরের আবেগ তাকে শিখিয়ে দেয় দিবাস্বপ্নের জালেই সুখ সাচ্ছন্দ্য সবই বেশি। আর লড়াই? কিংবা প্রমাণ করে দেখানোর জায়গা চাইলেই পাশে সরিয়ে রাখা যায়।

সব শেষে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া যায় জীবন তো কোন রাসায়নিক বিক্রিয়া না নরম নদী। তাই বয়ে যেতে হয়৷

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।