কবিতায় নীল নক্ষত্র

নিস্কৃতি
(রবীন্দ্র কবিতা *নিস্কৃতি* আজ থেকে একশত পাঁচ বছর আগে ( ১৩২৫) রচিত হয়েছিল । কবিতাটি আজও যথেষ্ট সময়োপযোগী বলে মনে হয় যেখানে ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩০ এর খবরে প্রকাশ হয় *আমাদের রাজ্যে পাঁচ বছরে পাঁচ লক্ষ মহিলা নিখোঁজ।* সেই কবিতাটির এক বিশেষ ভাবনার কথা এই সন্ধ্যায় আমার কলমে। এ আমার গুরু প্রণাম)
আজ থেকে একশো বছর আগে মঞ্জুলিকা ঘর বেঁধেছিল বাপের অভিশাপ মাথায় নিয়ে।
ভাগ্যিস বাপ ছিল তার একটা…..
মঞ্জুলিকার বাপ বলে কথা , যেমন তেমন বাপ না কি সে!
আরাম কেদারায় শুয়ে শুয়ে ইংরেজি নভেল পড়ার তার জুড়ি মেলা ভার।
সাহেব সুবোদের কথা দিশি গন্ডমুর্খরা কি করে আর বুঝতে পারে!
বালবিধবা মঞ্জুলিকার প্রাণে বিষাদের সুর যে সব সময় উথাল পাথাল করে সে কথা শুধু মঞ্জুলিকার মা টের পায় মনে মনে।
মঞ্জুলিকার মা মারা যাওয়ার সাথে সাথেই মঞ্জুলিকার বাবা কঠিন এক গৃহকর্মের দোহাই দিয়ে গেলেন চলে বাখরগঞ্জে নতুন বরের সাজে।
ফিরে এসে মঞ্জুলিকার কথা শুনে দিলেন তারে বারেবারে শতেক অভিশাপ।
পুলিনকে বিয়ে করে গেছে দোঁহে ফরাক্কাবাদ চলে। নেই তো তাদের এমন ভন্ড বাপের অভিশাপের আর কোন ভয়।
মঞ্জুলিকার এ হেন নিস্কৃতি ভগবানের দান…..
একশো বছর পরেও আজও কবির মঞ্জুলিকার মতো আরও অনেক মঞ্জুলিকা তাকিয়ে আছে আমাদের এই মঞ্জুলিকার দিকে ….
সে কথা শুধু আঁধার রাতের এক নীল নক্ষত্র একাই জানে।।