গল্পতে নীল নক্ষত্র

আসমানি কবুতর
এ তো দেহি মুচকি হাসি । আমার মতো প্রাণখুলা হাসি হাইসতে হইবো। সেই হাসি শুইন্যা সবাই পাগল কইবে জানি আমি।
আমাগো এহানে একহান বুটানিক্যাল গার্ডেন আছে। সহাল বেলায় গেলে তহন কোন লুকজন থাহে না। তহন ওহানে গঙ্গার পাড়ে বইস্যা আমি প্রাণ খুইল্যা হাইসতে পারি। কিন্তু যাওয়াই হয় না। মাঘের ভুরে একদিন যাইবো ভাবতাছি।
তুমাগো ওহানে ও তো একহান বুটানিক্যাল গার্ডেন আছে দ্যাখলাম।পুলাপানদের লইয়া চইল্যা যাবা একদিন। ওদের ও হাইসতে কইবা , তাইর লগে লগে তুমি ও প্রাণ খুইল্যা হাসবা। আর আমারে একহান ছবি পাঠাইয়া দিবা যেমন দিছো আজ।
খুব ভালো লাগতাছে তুমারে দ্যাখতে। তুমার চোক্ষু দুইডা আমারে একদৃষ্টে দেইখ্যা যাইতাছে। এই চোক্ষের ভাষা আমি খুব ভালো বুঝি। এ চোক্ষে কহনো পলক পড়ে না। শুধু দেইখ্যা যায় , দেইখ্যা যায়, দেইখ্যা যায়, ….. এ দেহার শ্যাষ নাই কোথাও।
আইজ সকালে দড়ি লাফ লাফাইছো কি? না লাফাইলে আলসেমি তুমারে ছাইড়া যাইবো না কুনদিন
রোজ সুন্দর কইরা সাইজবা। যদিও আমার কথা একটু অন্যরকম, কবিগুরু ঘেঁষা। কবিগুরুর ভাষায়…..”যেমন আছো তেমনি এসো আর কোরো না সাজ, নাই বা হলো পত্রলেখায় সকল কারুকাজ।”
আর আমার কথায়……. “ভুরের শিশিরের মতো আইসো, আইসো পাখির পালকের মতো চাঁদের নরম আলো গায়ে মাইখ্যা, তুমার কাছে তুমি এসো বিনা রাগে, শুধু মনোবীণা সাথে লয়ে , দেহিতে চাও যদি তারে নয়নে নয়নে।”
হায় হায়.. , “সারা দিন গেল আলে ঝালে , রাইত হইলে বুড়ি কাপাস ঢালে “! এহন বলে দড়ি নাই। নাই ,নাই ভার্চুয়ালি তো হাত ঘুরাইয়া ঘুরাইয়া লাফাইতে পারতা। মনে কইরা নিতা তুমাগো হাতে একখান লাফ দড়ি আছে। আসলে লাফালাফি করার ইচ্ছাটাই নেই। ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়। যে খায় চিনি, তারে যুগায় চিন্তামনি।
আমার মতো বয়সে আইস্যা আমার মতো হিল্লী দিল্লী কইরতে আর পারবা না । তহন দুলনা কিইন্যা নিবা একডা , দুল খাইতে খাইতে গান গাইবা কুন একদিন …… “সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে, ফুলডোরে বাঁধা ঝুলনা, ভুলোনা, ভুলোনা।”
ময়মনসিংহ গীতিকার মহুয়াসুন্দরীর কথা মনে পইড়া গেল। এহন তার কথা
কই, শুন মন দিয়া….
যদি পাইতাম কলসী দড়ি ( এইটুক আমাগো ) তুমি হইতা গহীন গাঙ , আমি ডুইব্যা মরি।( ময়মনসিংহ গীতিকা)।
তুমার হাতে দড়িদড়া দিয়া লাভ নাই। লাফাইতে হয়, হাত ঘুরাইয়া , ঘুরাইয়া লাফাইতে থাকো। কেউ মানা করবো না। হগ্গলে ভাইববে জগিং করতাছে। আমাগো এহানে জুয়ান মানুষ খালি ঘুমায়, বুড়া হইলে হাফ প্যান্ট আর কেডস জুতা পইরা ভুরবেলায় শুনসান রাস্তায় দৌড় মারে আমাগো মতো ফুকলা দাঁইতে আইসক্রিম খাইবার লাইগ্যা।
তুমি তো এহনো অত বুড়া হও নাই। তুমি ভুরবেলায় উইঠ্যা আমি এহন যেইভাবে কইতাছি সেইভাবে লাফাইতে থাকো। এগ ঢিলে দুইডা পাখি না , গুইন্যা গুইন্যা সাতডা পাখি মরবেই মরবে। পরে মিলাইয়া লওয়ার অনেক সময় পাইবা ।আর দেরি নয়, কাল থেকে শুরু লাফালাফি। তবে তার আগে একহান কাঁঠালী কলা খাইয়া নিতে পারো। আমি হনুমানদের কাইছ থাইক্যা শিখছি। অনেক এনার্জি পাওয়া যায়।
সত্য বলতাছি। এইসব কথা শুনে রাইগ্যা গিয়া কান কতডা লাল হইলো একহান ছবি পাঠাইয়া দিবা কিন্তু। ময়মনসিংহের ফর্সা মাইনষের রাইগ হলে কান লাল হইয়া যায়। মুহে কউক আর না কউক আমার চোক্ষে ঠিকই ধরা পইড়া যায়, রাইগ্যা গ্যাছে গিয়া বাছাধন।
দাওয়াই তহন একডাই ক্যাডবেরী ফাইভ স্টার চকোলেট। ব্যস এক মিনিটে রাইগের আইগে বিশাল এক *অনু* আইস্যা হাজির। তহন দ্যাখবা ক্যামন লাগে আমার আসমানি কবুতর!!