গল্পেরা জোনাকি তে নীল মিত্র

বন্ধুত্বের জাত হয় না
রুবীনা আর নীল একই জায়গায় পড়তে যেতো। একসাথে ফিরছিলো।পাশাপাশি হাঁটছিলো দুজনে। বৃষ্টি শুরু হলো।
রুবীনাকে ভিজতে দেখে নীল বললো ছাতাটা খোল। নীল একটু এড়িয়ে চলতো ঠিকই, কিন্তু সেই বৃষ্টির দিনে আর না করেনি যখন রুবীনা বললো এসো ছাতার তলায়, দুজনে অনন্ত মাথাটা বাঁচাই। তারপর কিছুক্ষণ দুজনে চলতে লাগল।
বৃষ্টিটা ভীষণ বেড়ে যাওয়াতে ছাতাতেও মানছিলো না। তাই পাশে একটা বাড়ি তৈরী হচ্ছিল, সেখানে আশ্রয় নিলো।
রুবীনার সালোয়ারটা ভিজে গিয়েছিল। ও ঠাণ্ডায় কাঁপছিলো। দাঁতে দাঁত লেগে যাচ্ছিল। এমন বৃষ্টি ভেজা দিনে রুবীনাকে কি করে ঠিক করবে ভেবে পাচ্ছিলো না নীল। তখন ভাবলো শরীরের তাপ দিলে ও হয়তো একটু সুস্থ অনুভব করবে। তাই রুবীনাকে জড়িয়ে ধরলো বুকের মাঝে। আস্তে আস্তে নীলের শরীরের তাপ পেয়ে রুবীনার কাঁপুনিটা একটু কমলো। রুবীনা নীলকে চেপে ধরে ছিল। সেই বৃষ্টিতে হিন্দু মুসলিম আর কোথায়ও মাথায় রইল না। একটা মানুষ আর একটা মানুষকে অবলম্বন করে ভালো করা আর ভালো হওয়ার তাগিদে আঁকড়ে ধরে ছিল।
অনেক গুলো বছর পেড়িয়ে এসেছে ওরা জীবনের। এখন বুঝতে পেরেছে এই জাত ধর্ম নিয়ে মিথ্যেই একে অপরকে দূরে সরিয়ে রাখি। আসলে আমরা সবাই মানুষ। বিপদে পড়লে একে অপরের সাহায্য চাই। আর জাতি ধর্ম এগুলো ভুলে যদি আমরা মিলেমিশে থাকতে পারি তাহলে একে অপরের অসময়ে কাজে লাগতে পারি। আজ নীল আর রুবীনা খুব ভালো বন্ধু।