গল্পেরা জোনাকি তে নীল মিত্র

বিধির বিধান
অমল সাহা আর ওনার স্ত্রী গুঞ্জন সাহা খুব সখ করে তাদের একটি ছেলে অরিন্দমকে মানুষ করেছে। নিজেদের সুখ আনন্দ বলিদান দিয়ে বড় স্কুলে ছেলেকে পড়িয়েছে। তারপর অরিন্দম যাদবপুর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে বড় কোম্পানিতে চাকরি পায়।এবারে ছেলের বিয়ে করাতে হবে তাই সুন্দর মেয়ে দেখে বিয়েটাও দিয়ে দেয় অমল সাহা।
কিন্তু এখান থেকেই তাদের জীবনের চাকাটা ঘোরা শুরু করল। যেটুকু টাকা পেয়েছিল শেষ বয়সে তাও ছেলের পড়াতে চলে গেছে। বৌমা অনিতা ভীষণ মর্ডান মানষিকতার মেয়ে। শশুর শাশুড়িকে নিয়ে সংসার করতে চাইলো না। তাই দুই বুড়ো বুড়ির স্থান হোল বৃদ্ধাশ্রম। ছেলেও দিয়ে গেল তাদের এখানে।
এখন নাতির বয়স ১৫ বছর। তাকেও দেখতে পায় না অমল আর গুঞ্জন। খুব মানষিক যন্ত্রণায় তাদের দিন কাটতে লাগল বৃদ্ধাশ্রমে। এভাবে বেশ কিছু বছর কেটে গেল। বিধির বিধান ভেবে দুইজন কষ্টে কাটাতে লাগল জীবন।
ওদের অনেক বয়স হয়েছে। চোখেও ঠিক মতো দেখতে পায়না এখন। একদিন হঠাৎ তারা দেখে দুজন ৬০/৬২ বছরের স্বামী স্ত্রী নতুন এসেছে বৃদ্ধাশ্রমে। কাছে গিয়ে তারা যাদের দেখল তারা আর কেউ নয়, অরিন্দম আর অনিতা। অনিতা কাছে এসে গুঞ্জনের পায়ে পড়ে কাঁদতে লাগল, বললো – আপনার নাতি আমাদের ঘর থেকে বার করে দিয়েছে। আমরা আপনাদের সাথে যে ব্যবহার করে ছিলাম, আজ আমাদের ছেলে আমাদের সাথে তাই করলো। তারপর অঝোরে কাঁদতে লাগল। একেই বলে বিধাতার লিখন না যায় খন্ডন, যেমন কর্ম করবে ফল তেমনি পাবে।