কবিতায় নবকুমার মাইতি

আর কতকাল!!!
সর্বংসহা ধরিত্রীর ধৈর্য নিয়ে আর কতকাল
ওরা পথ চলবে,সেই আদিকাল থেকে
একবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে চিত্রপট বদলায়না
কাকচক্ষু জলের মত স্থির,উজ্জ্বল অনিমিখ
দামিনী নির্ভয়া অভয়া সাত্যকি যেই বিশেষণ
দিইনা কেন,অন্তর দৃষ্টিতে দেদীপ্যমান
সর্বাঙ্গে নীল ক্ষত,পিঠে কালসিটে দাগ
আলজিভ,মুখমণ্ডল,স্তনযুগল, নাভি,জঙ্ঘা
ক্রমশ বিকল স্মৃতির সরণি,কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র
ধর্ষণ উল্লাসে ফেটে পড়ে বর্বর কামান্ধ পুরুষ
ছলে বলে কৌশলে রতি চিহ্ন এঁকে দেয়
পবিত্র মাতৃদেহে,গোপনাঙ্গে, শুনিত স্রোতে
বিঘ্নিত করে চিরন্তন ভালবাসার সফল সঙ্গম
সাইকেলেডিক আলো আর তার নিচে কেঁপে ওঠা নারী দেহ
সংঞ্জাহীন,ভাষাহীন,পরিত্রানহীন, কামজকুসুম !
তথাকথিত নরকের কীট সঞ্জয়,ধনঞ্জয়রা আজও
দাপিয়ে বেড়ায় রাষ্ট্রশক্তির নাকের ডগায়
সুশীল সমাজ অনুশোচনায় শুধু জোড়া তালি দিই
অফিস আদালত সাইনবোর্ড সর্বস্ব,নারী স্বাধীনতার
স্লোগান,ঠিক তার পাশেই সুচি ভেদ্য অন্ধকার
ভগবতী স্বরূপা অবোধ নারী,হাড়হিম অত্যাচারে শুধু কাতরায়
আর্ত-চিৎকার টুকু বাদ দিলে পড়ে থাকে
বিষণ্ন বলীরেখা,চেগুয়েভেরার ডায়েরী আর নিষ্পাপ
টলটলে দুটি চোখের ওই করুণ আর্দ্রতা
হে অবোধ্য পৃথিবী,তোমার আজও কত দৃশ্য দেখা বাকি!!!