T3 || ১লা বৈশাখ || বিশেষ সংখ্যায় নব কুমার দে

সেই ছেলেটাকে খুঁজছি যে ভুল সুরে আমোদ করে গেয়ে বেড়াতো
এসো হে বৈশাখ এসো এসো
এসো হে বৈশাখ এসো এসো
খুঁজে পাচ্ছি না
পুকুরের জলে এই মাত্র একটা শুকনো চালতা পাতা খসে পড়লো
দুটো পানকৌড়ি ভুব ডুব খেলছে
ওই আরও একটা
মনে হলো কাঁঠাল গাছের পাশ দিয়ে
মশমমশিয়ে বাঁশ বাগানের দিকে ছুটে গেলো ছেলেটা
কর্কশ ডেকে উঠলো দাঁড়কাক
এমন ডাকের আশেপাশে নাকি মৃত্যু অপেক্ষা করে
এদিকে শহরের পীচ রাস্তায়
গায়ে জ্বালা ধরানো রৌদ্রের রসিকতা
এতো অন্যায় , এতো অন্যায়
প্রতিবাদের কবিতা লিখতে লিখতে কলমের কালি শেষ হয়ে গেছে
ক্লান্ত কবির
এসময় জিরিয়ে নেওয়া দরকার
অথচ দুয়ারে বৈশাখ
ছেলেটা কোথায়
আজ ঝগড়া করবো
আজ বলবই , বৈশাখ মানে গাত্রদাহ , বৈশাখ মানে জ্বালা
জানি ছেলেটা বলবে
বৈশাখ মানে অফুরন্ত সকাল
ঘুম থেকে জেগেই খেলা
খেলা সেরে পড়া, পড়া সেরে খেলে
খেলা সেরে স্কুল , স্কুল সেরে খেলা
কত্ত বড় ঝকঝকে চকচকে দিন
পাট খেতের ওপর দিয়ে তখন
মশাগ্রাম লোকালের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে শনশন
ইলেক্ট্রিকের তারে অকারণে ল্যাজ নাচালো ফিঙেটা
এসো হে বৈশাখ এসো এসো
এসো হে বৈশাখ এসো এসো
কোপাই এর ধার ধরে ছুটছে ছেলেটা
মরা ইছামতীর পাশে কাঠকূটো জ্বেলে
এই অবেলায় ডালের বড়া ভাজছে ওর দিদি
কেউ কারো দেখা পাবে না কোনদিন
ওর দিদিকে কেউ জ্যান্ত জ্বালিয়ে দিয়েছে
ছেলেটাকে কেউ বিক্রি করে দিয়েছে ভিনদেশে
এই নষ্ট সময়কে লিখতে লিখতে ক্লান্ত আমি
এই দেশে রাজা উলঙ্গ নয় , রাজা নির্লজ্জ
তবুও দুয়ারে বৈশাখ
হেরে যাচ্ছি আমি
ওই দূরে , ধান ক্ষেতের ওপারে , রেল লাইন পার করে আরও দূরে
সূর্য লাল হয়েছে ডুববে বলে
এখনই ছুটে যাবে বিকেলের শেষ এক্সপ্রেস
তবুও বৈশাখ এসো হে
এসো হে বৈশাখ এসো হে