এখনও গুছিয়ে উঠতে পারিনি, এখনও এতটা শক্ত হাতে কলম ধরতে পারছি না। আসলে সৌরভদার মৃত্যুটা, শঙ্খ ঘোষের মত নয় ,আর পাঁচটা কবির মত নয়। একটা অতি সাধারণ স্বাভাবিক মৃত্যু নয় তাইতো মেনে নিতে এত কষ্ট হচ্ছে। কারণ যে মানুষটা জানতো তার শ্বাসকষ্ট আছে আর তারপরও করোনা পরিস্থিতিতে আজ একে কাল ওকে নিয়ে হাসপাতালে দৌড়ে বেড়িয়েছে। মৃত্যুর সাথে চোখে চোখ রেখে কজন খেলতে পারে। সৌরভদা পেরেছিলো।
কে এই সৌরভদা , আমার সাথে কবে থেকে পরিচয় সেসব থাক। সৌরভদা একজন কবি , একজন সম্পাদক শুধু এতটুকু হলে ক্ষতি ছিলো না। ক্ষতি হল সৌরভদা নিজেও জানতো না জঙ্গলে গাছেদের সাথে থাকতে থাকতে সে নিজেই কখন ডালপালা , শেকড় ছড়াতে ছড়াতে বৃক্ষ হয়ে গেছে। আমি তার শত্রুকেও দেখেছি সেই বৃক্ষের ছায়ায় এসে বসতে।
সৌরভদা ভালো খারাপ দুটোই , তাই বন্ধু শত্রু দুই আছে আর এদেরকে ছাপিয়ে শুধু একমুখ হাসি আর অদম্য জেদ সম্বল করে সৌরভ মুখার্জি নামটাই একটা আস্ত প্রতিষ্ঠান হয়ে গেছে।
সৌরভদা আমার প্রতিটি বিপদের দিনে ফোন করে বলেছে আমি পাশে আছি। সৌরভদা আমার মাত্রাহীন বাড়াবাড়ি দেখে ফোন করে ধমকেছে আর এই সৌরভদাই আমার প্রথম বই প্রকাশের জন্যে যখন কোথাও জায়গা পাচ্ছি না বলেছিল আমার ঘাসের আড্ডা তো আছে ওখানেই হবে।
ক্লাইম্যাক্স এ এসে লোডশেডিং হয়ে গেলো। কি করলো সৌরভদা একটা সরাসরি সঙ্ঘাত বেছে নিলো। আজ যারা সৌরভদার বন্ধু বা কাছের মানুষ বা পছন্দের মানুষ তারা তো না হয় স্মৃতিচারণা করতে করতে এক সময় সামলে উঠবে । কিন্তু যারা শত্রু ছিল তারা কি করবে , কিভাবে সামলাবে।
সবশেষে একটা কথা বলি সৌরভ মুখার্জি মারা যায়নি
করোনা যুদ্ধে শহীদ হয়েছে।